জলধি / কবিতা / ইকাবুল সেখের তিনটি কবিতা
Share:
ইকাবুল সেখের তিনটি কবিতা
পুতুল 
 
আমি আমার সন্তানকে কখনো পুতুল কিনে দেব না 
খেলনাগাড়ি,গিটার,পিয়ানো 
কিংবা গহনা হবে তার 
তবে পুতুল নয়।
 
 
পুতুল তৈরি হয় মানুষের আদলে
আর মানুষ পুতুল নিয়ে খেলাঘর সাজায় 
এই পুতুল পুতুল খেলা অবশেষে মানুষে গিয়ে থামে 
আমাদের এই পুতুল ভাঙার অভ্যাস
মানুষ ভাঙা শেখায়!

মৃত কবির অঙ্কুর 
 
পৃথিবী, এবার তবে ঘুমাও।
কোন আর্তনাদ আর পৌঁছাবে না তোমার বধির কানে
চাইলে উৎসবে মেতে উঠতে পারো আজ—
আমাদের তো কোন ময়না তদন্ত হয়নি।
 
সভ্যতার এই মহাশ্মশানে দাঁড়িয়ে এক নিঃসঙ্গ কবি 
চাইলে এক্ষুনি তাঁর ধড় থেকে মুন্ডু খসিয়ে নিতে পারো 
তোমাদের মদের আসরে সাজিয়ে নিতে পারো—
কবির মুন্ডু নিঃসৃত ঘিলুর চাট; 
প্রতীক্ষা কেবল ঈশ্বরের...
 
শুধু জেনে রেখো—
মৃত কবির প্রতিটি কোষে অঙ্কুরিত হচ্ছে ফিলিস্তিন।

একটা ফুল তুলে রেখো
 
যে মানুষটা —
ভোরের পাখিদের আগে জেগে ওঠে 
সূর্য ওঠার আগে ঘর ছাড়ে
গোধূলি সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে
তার জন্য একটুখানি আলো জ্বেলে রেখো 
 
যে মানুষটা মাঝেমধ্যে —
কমদামি একডজন কাঁচের চুড়ি একপাতার টিপ অথবা লিপস্টিক আনে 
খাবার বলতে যে শুধু —
পাঁচ টাকার শুষ্ক বাদাম কিংবা বিশ টাকা জল ফুচকা বোঝে
তার জন্য শীতল পাটি বিছিয়ে রেখো
 
গ্রীষ্মের খরা শীতের শৈত্যপ্রবাহ কিংবা বর্ষার বান উপেক্ষা করে যে মানুষটা এত কিছু করে
তাঁর জন্য একটা ফুল তুলে রেখো
যে ফুলে তোমার ভগবানের পুজো হয়


অলংকরণঃ তাইফ আদনান