জলধি / কবিতা / আমিরুল বাসারের পাঁচটি কবিতা
Share:
আমিরুল বাসারের পাঁচটি কবিতা

কোমল গান্ধার বুকে, তোমার হৃদয়ে

জানি এভাবে একদিন

ক্রমশঃ দূরে চলে যাবো আমরা

আমাদের দেখা হবে না কোনো বসন্তকালে।

আকাশের নিচে সাদামেঘগুলো চলে যাবে

অন্যখানে। তবুও তোমাকে আর পাবো না।

শিশিরের বুক ছুঁয়ে ঘাস ফড়িং উড়ে যাবে,

সন্ধ্যার লাল রঙে রাঙিয়ে দেবে সূর্যালোক

তবু, তুমি আর থাকবে না কাছে।

 

একদিন এভাবেই হারিয়ে যাবো কুয়াশার চাদরে

ভোরবেলা আজানের সুর চলে যাবে অন্য পাড়ায়

আমাদের পথগুলো হারিয়ে যাবে দূর গ্রামের ভেতর

তবুও তুমি জানবে না আমার ঠিকানা।

 

একদিন, কোনো দিন দেখা হবে না আগের মতন

আমার পথমুখে ফুটবে না তাজা গোলাপ ফুল,

শুধু পথিকের পদধ্বনি ক্রমশঃ মিলিয়ে যাবে শূন্যে

ভুল করেও আমাদের দেখা হবে না আর।

 

একদিন, বকুলের মত সুবাস শরীরে মেখে

কাছে আসবে না সমৃদ্ধ বিকেলবেলা

দুজোড়া ক্লান্ত হৃদয় বসবে না মুখোমুখিজ্জ অকস্মাৎ

বাতাসের বেগে ধেয়ে আসবে প্রচন্ড দহন,

আমাদের মুখদুটো মনে পড়বে না কারো মনে

শুধু শূন্যতায়জ্জ শূন্যতায় গ্রাস করবে অসংখ্য প্রহর।

 

একদিন, তুমি চাইলেও ফেরা হবে না আমায়

কমলগান্ধার এ সবুজ প্রকৃতির বুকে, তোমার হৃদয়ে।


আলোময় বিকেল

ইউক্যালিপটাস দাঁড়িয়ে আছে সামনে

উপরে দোল খেয়ে নেচে উঠে পাতারা

বিকেলের রোদ আসে পাতার বুকে

ঝলমল করতে থাকে খন্ড খন্ড রোদ।

দূরে, ঐ সুদূর হাত বাড়িয়ে আছেজ্জ

অস্ট্রেলিয়ান একাশিয়া

কথা বলে বাতাসে সবুজ শরীর।

বাক খেয়ে চলে গেছে মেঠো পথ,

কতজন পথিক হাঁটতে থাকে নিরিবিলি।

কাকের কর্কশ শব্দে

ভেঙে যায় ঘুম নিরাবতা।

ক'ফোটা বৃষ্টি নামে সবুজ পাতায়

আমি তবু খুঁজে ফিরি আলোময় বিকেল।


সূর্য উঠবে অনন্ত

আকাশ থেকে উড়ে গেল পাখি

হারিয়ে গেল সাথীহারা শোক

রৌদ্র ভেঙে পড়ছে মেঘের বুকে

নয়ন তুলে দ্যাখে অচিন লোক।

 

বনজ ছায়ায় ক্লান্ত হয়ে পথিক

ক্লান্ত ছাড়ে গাছের নিচে বসে

দৃষ্টি জোড়া দিগন্ত গেছে বেঁকে

আরো কিছু যেতে হবে হেসে।

 

পথ ফুরালে মন ফুরালে

শেষ হবে যেই দিগন্ত

সূর্য বেলা অস্ত যাবে

আবার, সূর্য উঠবে অনন্ত।


ব্রম্মপুত্রের দুঃখ

ব্রম্মপুত্র নদ জানে

কতটা দুঃখ পেলে আকাশের মেঘগুলো ঝরে পড়ে

আমার বুকে।

এই সবুজ বন, শুস্ক মাটি আর নয়ন জানে

কতটা রাত পেরুলে

জোছনাগুলো ঝরে পড়ে আমার বুকে।

আমি ত চাই নি প্লাবন, ভেসে যাবে সুখগুলো

বিরুদ্ধ স্রোতে।

 

মাসকান্দার বিকেল জানে

কতটা নিরব কেটেছে সময়, কতটা গভীর মনে।

সে কথা ভোলেনি এই রেলপথ

তার বাঁশি আজো বাজে।

 

চরপাড়ার ঐ আবাসিকগুলো, তারা আজো তেমনি।

সে কথা ভোলেনি খন্দকার

কত সাজ গেছে, কত কাজ সেরে

স্মৃতিতে আছে তা যেমনি।

 

কতটা ক্ষরণের স্রোত চলেছে নিরবে

ব্রম্মপুত্র নদ সে কথা জানে।

কতটা জমিন বুকপাতা দুখ

সে কথা কী কেউ মানে?

 

সে কভু শুনলো না

পথিকের আদিগন্ত পদধ্বনি।


ভোর

অপেক্ষার প্রান্তসীমা ছুঁয়ে

শিশির বুকে আবারও আসুক ভোর,

হৃদয় পানে দুহাত বাড়িয়ে বলুক

এই এসেছি, সেই যে আমি তোর।

 

দখিনপানের বাতাস আসুক ধেয়ে

সবার মাঝে উদিত ততপর,

পশ্চিমাসে মেঘের গুরুগুরু, চল

আজ এখানে খেলবো আপন- পর।

 

বীণ বাজিয়ে আওয়াজ তোলো রোল

অন্ধকারে জ্বলুক মশাল আলো,

ঐক্য গড়ে শিকল বাঁধা হাতে, তাই

সন্ধ্যেআলোর সলতে এবার জ্বালো।



অলংকরণঃ তাইফ আদনান