লেখকের আত্মজৈবনিক স্মৃতির উপর ভর করে এগিয়ে চলা এই উপন্যাসের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে ঢাকা শহরের নীলক্ষেত-আজিমপুর এলাকার একটি কলোনির হাসি-কান্না, অভাব-অনটন, মধ্যবিত্তের টানাপোড়েন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন দেশের স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের আখ্যান।
কালের ক্যানভাস
উপন্যাসের শুরুতেই আমরা দেখি স্মৃতির এক চমৎকার প্রত্নতাত্ত্বিক খনন। বানেজার মা যখন ঘর ঝাড়ু দেয়, তখন শুধু ধুলোই ওড়ে না, বেরিয়ে আসে বিগত বিশ বছরের টুকরো টুকরো ইতিহাস। বিয়ের কার্ড, রেশন কার্ড, চিঠির খাম, মরিচাধরা আলপিন—এসব যেন কেবল জড়বস্তু নয়, বরং একেকটি পার হওয়া সময়ের জীবাশ্ম। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রতীকী হয়ে ওঠে ‘ময়ূরের পালক’।
কিশোরী বয়সে বইয়ের পাতায় ময়ূরের পালক জমিয়ে রাখার যে রোমান্টিক বাসনা, তা একসময় হারিয়ে যায় জীবনের রূঢ় বাস্তবতায়। লেখক যখন বলেন, ‘সকালের গুমটি মেঘলা আকাশ ঘনীভূত হয়ে একটু যেন বাতাস ছাড়ল, সেই বাতাসে পালক উড়তে লাগল যথেচ্ছ, যত্রতত্র,’ তখন সেই উড়ন্ত পালকগুলো যেন মানুষের অস্থায়ী জীবন, বিলীন হয়ে যাওয়া কৈশোর এবং কালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদেরই রূপক হয়ে ওঠে। লেখক এখানে বুঝিয়েছেন, স্মৃতির কোনো সুনির্দিষ্ট ওজন নেই, কিন্তু তার ভার বহন করা সবচেয়ে কঠিন।
মধ্যবিত্তের অহংকার ও দারিদ্র্যের ছলাকলা
‘কলোনি’ উপন্যাসের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো তৎকালীন নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জীবনের নিখুঁত চিত্রায়ণ। কলোনির মানুষগুলোর অভাব আছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে সেই অভাবকে লুকিয়ে রাখার এক প্রাণান্তকর চেষ্টা।
একটি মেয়ে যখন বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে দূরদেশ চট্টগ্রামে সংসার পাততে যাচ্ছে, তার সম্বল একটি সেগুন কাঠের খাট এবং একটি বাঁশের ঝুড়ি। এই বাঁশের ঝুড়ির ভেতরেই ইত্তেফাক পত্রিকায় মোড়ানো আছে তার যাবতীয় সংসার সাজানোর জিনিস। লেখক দারুণ মুন্সিয়ানায় লিখেছেন— ‘ভিতরের তুচ্ছ বস্তুকে মায়া দিয়ে মূল্যবান করার অপার চেষ্টা এবং আপাত আসল বস্তু লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার গভীর ষড়যন্ত্র!’ এটিই মধ্যবিত্তের বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র। কলোনির বারান্দা থেকে যেন কেউ তাদের দারিদ্র্য দেখে না ফেলে, সেই‘ছলাটুকু’ বা আবরণটুকুই তাদের সম্ভ্রম।
অন্যদিকে, চরম দারিদ্র্যের আরেক রূপ আমরা দেখি‘শুকরানি’ নামক মেথরানির চরিত্রে। মরা মুরগি ময়লার বালতিতে পেলে সে সযতনে রেখে দেয় খাওয়ার জন্য। মধ্যবিত্ত পরিবার যেখানে মরা মুরগি কে খাবে তা নিয়ে নাক সিঁটকায়, সেখানে শুকরানির কাছে তা এক মহোৎসব। ঈদের দিন শুকরানির আকর্ণ বিস্তৃত হাসি এবং বকশিশ না পেয়েও কেবল একটু সেমাইয়ের আশায় দুদিন পর আসার প্রতিশ্রুতি—আমাদের সমাজের তীব্র শ্রেণি বৈষম্যের এক নগ্ন দলিল হিসেবে পাঠককে স্তব্ধ করে দেয়।
টিকে থাকার সংগ্রাম
উপন্যাসটিতে ষাট ও সত্তরের দশকের অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে খুব সাধারণ কিছু প্রাত্যহিক ঘটনার মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বড় ভাইয়ের হাতখরচ জোগাতে মাকে রেশনের চিনি বেশি দামে কালোবাজারে বা পরিচিতদের কাছে বিক্রি করতে হয়। একটি ভালো শার্ট রাত্রে ধুয়ে সকালে ইস্ত্রি করে পরে ক্যাম্পাসে যাওয়ার মধ্যে যে নীরব হাহাকার আছে, তা সেই যুগের বহু তরুণের সাধারণ গল্প।
সবচেয়ে মর্মান্তিক অথচ হাস্যরসাত্মক বর্ণনাটি এসেছে বোরহানের দোকান থেকে আট আনায় কেনা ‘জোড়া কলা’ খাওয়ার প্রসঙ্গে। একটার দামে দুটো কলা পাওয়া যায় বলে জোড়া কলাই খায় ছেলেটি। একটি সাদা সোয়েটার কেনার সামর্থ্য না থাকায় শীতের সকালে জবুথবু হয়ে হেঁটে কার্জন হলে ক্লাস করতে যাওয়া এক তরুণের গল্প কেবল একটি পরিবারের নয়, এটি যেন সদ্য স্বাধীন এক অভাবী রাষ্ট্রেরই প্রতিচ্ছবি।
উপন্যাসে প্রকৃতি এবং রাজনীতি একাকার হয়ে গেছে। ১৯৭০ সালের নভেম্বরের ভয়ংকর সাইক্লোন বা গোর্কির বর্ণনা লেখিকা দিয়েছেন অত্যন্ত সাবলীল ভাষায়। বড় একটি কড়ই গাছ উপড়ে পড়া বা আলম সাহেবের মেয়ে নারগিসের স্টিমার ডুবিতে মৃত্যুর ঘটনা পাঠককে সেই ভয়াবহ স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। গলার সোনার চেইন পরা কিশোরী নারগিস যেন আস্ত এক স্বপ্নের সলিল সমাধি।
তবে এই প্রাকৃতিক ঝড়ের চেয়েও বড় ঝড়টি ঘনীভূত হচ্ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। লেখিকা চমৎকারভাবে ঐতিহাসিক তথ্য উপন্যাসের ফ্রেমে যুক্ত করেছেন—“ঝড়ের চোদ্দ দিন পর ভোলায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আগমন এবং ত্রাণের অপ্রতুলতায় জনতার ‘না না’ চিৎকার।’’ এই জনরোষই যে সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ জয় এনে দিয়েছিল, তা একটি শিশু বা কিশোরীর চোখ দিয়ে লেখক দারুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
এরপর আসে ২৫ মার্চের কালরাতের কথা। কামানের গোলা, চারপাশের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের মাঝেও একজন পিতার নির্দেশ—‘বালতিতে একটু ফ্যান নিয়ে যাও তো বাবা, দেখ মা হারা বাছুরটা গোয়ালে আছে কিনা।’ একদিকে পাকিস্তানি মিলিটারিদের মার্চপাস্ট, অন্যদিকে একটি অবলা পশুকে বাঁচানোর আকুতি—সব মিলিয়ে একাত্তরের বিভীষিকার এক অসামান্য অণুচিত্র তৈরি করেছেন নাসিমা আনিস।
হতাশা, মোহভঙ্গ এবং বিপথগামী তারুণ্য
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার দলিল হিসেবেও ‘কলোনি’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তরুণ প্রজন্মের যে বিপুল প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে আছড়ে পড়ে। উপন্যাসের শুরুতেই ‘ফ্রাস্ট্রেশন’ বা হতাশা শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়।
টেডি বয়দের বেলবটম প্যান্ট পরা, বড় চুল রাখা এবং শিষ দেওয়ার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর শূন্যতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শেখ মুজিবের সরকারের শূন্য কোষাগার নিয়ে লড়াই এবং অন্যদিকে জাসদের মতো দলের উত্থান সমাজকে কীভাবে বিভক্ত করেছিল, তার চিত্র এখানে স্পষ্ট। রাফি ভাই বা ঝিলু ভাইয়ের মতো চরিত্র, যারা মেট্রিকে প্রথম বিভাগ পাওয়া মেধাবী ছাত্র অথবা রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ছিল, তারাই স্বাধীনতার পর কম্পাসহীন নাবিকের মতো হারিয়ে যায়। স্বাধীনতার সুফল হিসেবে সাধারণ মানুষ চেয়েছিল মানবিক মর্যাদা, সস্তায় চাল-ডাল এবং বেকারত্ব ঘোচানো। তা না পাওয়ার এই ‘ফ্রাস্ট্রেশন’ একটি পুরো প্রজন্মকে কীভাবে গ্রাস করেছিল, কলোনির গণ্ডির ভেতর দিয়ে লেখক সেই জাতীয় ইতিহাসের ভাষ্যকার হয়ে উঠেছেন।
ছোট ছোট আনন্দ এবং কলোনি সংস্কৃতি
কষ্ট আর অভাবের মাঝেও কলোনির জীবনে ছিল অদ্ভুত সব আনন্দ আর মায়া। ঈদের জামা আর জুতো নিয়ে শিশুদের যে উত্তেজনা, তা চিরন্তন। এক ঈদে জামা তো অন্য ঈদে জুতো—এই খণ্ডিত আনন্দ নিয়েই তাদের বেঁচে থাকা।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা কাঁচা মাষকলাই ডাল আর জ্যান্ত শোল মাছের রান্নার সুঘ্রাণে পুরো দোতলা ম-ম করার দৃশ্যটি পাঠকের জিভে জল এনে দেয়। আবার মায়ের রান্না করা দুর্গন্ধযুক্ত কিন্তু সুস্বাদু ‘কাজির ভাত’ বা ‘কাঞ্জির জাউ’ গ্রামীণ শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
বাবার মাছ ধরার শখ একটি বড় অনুষঙ্গ। জহুরুল হক হলের পুকুর বা ধানমন্ডি লেকে মাছ ধরা, ঈদের আগের রাতে বড় মাছ ধরে এনে প্রতিবেশীদের বিলিয়ে দেওয়া—এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে কলোনির মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা ফুটে উঠেছে।
সাহেবুল্লাহ কাকার মতো চরিত্র, যিনি প্রচণ্ড বেগে হাঁটেন, কথা বলার সময় থুতু ছিটান, কিন্তু বিপদে-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসেন; কিংবা মিরাজ কাকার দ্বিতীয় স্ত্রীর বৈষম্যহীন মাতৃস্নেহ—কলোনি জীবনের এক বৈচিত্র্যময় মানবিক ক্যানভাস তৈরি করেছে।
বয়ঃসন্ধিকাল ও অবদমিত প্রেম
কলোনির বন্দি জীবনে মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। দশ-এগারো বছর বয়স হলেই মেয়েদের বাইরে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ছাদে বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরের পৃথিবী দেখা—এটাই ছিল তৎকালীন সমাজবাস্তবতা।
এর মাঝেই পনেরো বছরের এক কিশোরীর গণিত খাতার ভেতর লুকিয়ে রাখা ‘দুর্দান্ত দুঃসাহসী পত্রলেখা’ বা প্রেমপত্রের আদান-প্রদান উপন্যাসে এক মিষ্টি রোমান্টিক আবহ তৈরি করেছে। ধরা পড়ার ভয়, মায়ের মার খাওয়ার শঙ্কা, তবু একটুখানি দেখার জন্য বারান্দায় পিচ্ছিল পথে দাঁড়িয়ে থাকা—সব মিলিয়ে এটি এক শ্বাসরুদ্ধকর অথচ মধুর অবদমন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
উপন্যাসের একটি অংশে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের একটি নির্দোষ অথচ চিন্তার উদ্রেককারী চিত্র রয়েছে। ভারতেশ্বরী হোমসে পড়া হিন্দু বন্ধু ‘মুক্তি’কে নিয়ে কলোনির বাচ্চাদের কৌতূহল এবং খেলার ছলে শেখানো বুলি—‘হিন্দু হিন্দু তুলসি পাতা, হিন্দুরা খায় গরুর মাথা’—তৎকালীন সমাজের শিশুদের মনস্তত্ত্বকে তুলে ধরে। তবে এর মধ্যে কোনো বিদ্বেষ ছিল না, ছিল না বুঝে বলা এক ধরনের ছেলেমানুষি। বরং মুক্তির খাদ্যাভ্যাস (গম সিদ্ধ খাওয়া) এবং বন্ধু জলির সঙ্গেখুনসুটি—এই অসাম্প্রদায়িক কলোনি জীবনের এক স্বাভাবিক অংশ হয়েই থেকেছে।
স্মৃতির বিজয়স্তম্ভ
উপন্যাসের একেবারে শেষাংশে, ২০০৩ সালে অর্থাৎ স্বাধীনতার ৩১ বছর পর, লেখক তার আঠারো বছরের মেয়েকে নিয়ে যখন সেই পুরনো কলোনিতে ফিরে যান, তখন উপন্যাসের সুর এক ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছায়।
অনেক কিছুই বদলে গেছে। একতলা-দোতলা বাড়ির জায়গায় উঠেছে বহুতল ভবন। কিন্তু লেখক খুঁজছেন ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে নিহত তাদের প্রিয় ‘কাঞ্চন’ এবং জহুরুল হক হলের দারোয়ান ‘শহিদ সামসুদ্দিন’-এর কবর। যখন তিনি দেখলেন সেই কবরের জায়গার উপর দিয়েই নতুন সীমানাপ্রাচীর তোলা হয়েছে, তখন বুকটা হাহাকার করে ওঠে। কিন্তু পরক্ষণেই এক অলৌকিক আনন্দের জন্ম হয়, যখন তার মেয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সেই প্রাচীরের গায়ে কালো কালিতে কে বা কারা একটি‘শহিদ মিনার’ এঁকে রেখেছে।
এই দৃশ্যটি এই উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রূপক। রাষ্ট্র বা কর্তৃপক্ষ হয়তো ইট-পাথরের দালান তুলে ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়, কিন্তু সাধারণ মানুষ, কোনো এক নাম না জানা শিল্পী, ঠিকই তার স্মৃতির ক্যানভাসে শহিদদের বাঁচিয়ে রাখে। লেখকের এই আনন্দাশ্রু যেন পুরো জনগোষ্ঠীরই ইতিহাস বিস্মৃতির বিরুদ্ধে এক নীরব জয়গান।
গ্রন্থ প্রসঙ্গে কিছু কথা
নাসিমা আনিসের ‘কলোনি’ কেবল স্মৃতিচারণমূলক উপন্যাস নয়, এটি বাংলাদেশের জন্মের এক প্রামাণ্য সমাজতাত্ত্বিক দলিল। উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল, প্রাঞ্জল এবং অনেক ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতার মিশেল। মুন্সিগঞ্জের ভাষা বা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টানের যে ব্যবহার আমরা দেখি, তা উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই উপন্যাসে কোনো আরোপিত ভণিতা নেই। মধ্যবিত্তের হাহাকার, মুক্তিযুদ্ধের আতঙ্ক, স্বজন হারানোর বেদনা এবং সর্বোপরি বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাকে লেখক সৎসাহসের সঙ্গেতুলে ধরেছেন। বাবার রাগ, মায়ের নীরবতা, ভাই-বোনদের খুনসুটি—সব মিলিয়ে এটি যেকোনো পাঠকের নিজের জীবনের গল্পেরই প্রতিচ্ছবি হতে পারে।
যারা ষাট বা সত্তরের দশককে দেখেননি, যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কেবল বইয়ের পাতায় পড়েছেন, তাদের জন্য‘কলোনি’ একটি টাইম-মেশিনের মতো কাজ করবে। এটি এমন এক উপন্যাস, যা পাঠ শেষে পাঠকের মনে এক দীর্ঘস্থায়ী রেশ বা বিষণ্ণ মধুর আবেশ রেখে যায়। একটি সাধারণ কলোনির গল্প যে কতটা অসাধারণ রাষ্ট্রীয় বয়ান হয়ে উঠতে পারে, নাসিমা আনিস তাঁর চমৎকার গদ্যশৈলী দিয়ে তা প্রমাণ করেছেন। বাংলা কথাসাহিত্যে এই গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে একটি মূল্যবান সংযোজন।
অলংকরণঃ তাইফ আদনান
