জলধি / পাঠ-পর্যালোচনা / টু ফরটি নাইন স্ট্রীট, বেলরোজ : একটি সরল পাঠ
Share:
টু ফরটি নাইন স্ট্রীট, বেলরোজ : একটি সরল পাঠ

কবি শামস আল মমীন চুয়াল্লিশ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন। তিনি যখন শিক্ষা উপলক্ষে দেশ ছাড়েন তখন সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ এক যুবা পুরুষ তিনি।দেশ থেকে  এত দীর্ঘ বছরের অনুপস্থিতি  সত্ত্বেও দেশের সাহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে  তাঁর সংযোগ কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নাই । হতে পারে এই বিচ্ছিন্নতাই দেশের প্রতি, দেশের সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ভালোবাসা আরও প্রগাঢ় করেছে।আমেরিকার প্রসঙ্গ উঠলে  আমাদের একজন প্রধান কবি শহীদ কাদরির কথা চলে আসে। কাদরি জীবনের দীর্ঘ বাইশ বছর আমেরিকায় কাটিয়েছিলেন। জানা যায়, কাদরির সঙ্গে শামস আল মমীনের গভীর বন্ধুত্ব ছিলো। মমীনের ‘'একা’ নামক একটি কবিতায় শহীদ কাদরির প্রসঙ্গ উঠে আসতে দেখি - 
“কবি তাঁর পংক্তিগুলো লিখে যায় একা 
নিউইয়র্কের তুষার হাওয়ায় হাঁটতে হাঁটতে 
শহীদ কাদরি 
পুরনো ঢাকার স্মৃতি  খোঁজে একা; 
যে নারী সংসার করে ভালোবাসাহীন,
দূর নক্ষত্রের চেয়ে 
সে আরও অনেক বেশি একা।”
কাল বিচারে শামস আল মমীন((জন্ম ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৫৭,বদরগঞ্জ,রংপুর ) নব্বই দশকের কবি। তবে একটা বিষয় লক্ষনীয়,নব্বই  দশকের কবি হলেও তাঁর কবিতায় এই দশকের মূল ধারার কাব্য আঙ্গিক অনুপস্থিত। তিনি এক ধরনের সরল ন্যারেটিভ ফর্মে কবিতার শরীর নির্মাণ করেন। কোনো অপ্রচলিত অথবা দুর্বোধ্য শব্দ দ্বারা ভারাক্রান্ত নয় তাঁর কবিতা। এবং তাঁর কবিতার ভাষা কোমল কিন্তু হৃদয়- স্পর্শী। অনেক কবিতায় তিনি সার্থকভাবে রংপুরের আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করেছেন। ভাবনাকে উন্মোচনের ক্ষেত্রে শৈল্পিক নিপুণতায় রুপক এবং চিত্রকল্পের অবতারণা করেন তিনি। আর এইসব  চিত্রকল্প উঠে আসে চারপাশের চেনা অনুষঙ্গ থেকে। ফলে তাঁর কবিতার সঙ্গে পাঠক  সহজেই  একাত্ম হতে পারেন। সবমিলিয়ে তিনি নিজস্ব একটা কাব্যস্বর নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন  যার দ্বারা সহজেই তাঁর কবিতার স্বাতন্ত্র চিহ্নিত করা যায়।
শামস আল মমীন শিক্ষা উপলক্ষে ১৯৮২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যে  যান।সেখানে সেন্ট্রাল স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত তিনি দিগন্ত  নামে একটি সাপ্তাহিক  পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন। এছাড়া ১৯৯৭ সালে  ‘আকার ইকার’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা বের করেন যা দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দীর্ঘ তিরিশ বছর তিনি শিক্ষকতায় অতিবাহিত করেন। বর্তমানে এই শহরেই  অবসর জীবন যাপন করছেন।
 মমীন  বাংলার পাশাপাশি  মূল ধারার ইংরেজি কবিতার  চর্চা করেন।বিভিন্ন মার্কিন সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর কবিতা নিয়মিত ছাপা হয়। এক ব্ল্যাক হিস্ট্রি মান্থে তাঁর বর্ণবাদ বিরোধী ইংরেজি কবিতা নিউইয়র্কের কলেজ পাঠ্যক্রমেও স্থান পেয়েছিলো।
যৌবনের প্রারম্ভে মমীন দেশ ছাড়েন।একারণে এদেশের কোনো  কাব্য আন্দোলন বা গোষ্ঠীর সঙ্গে  তিনি শারীরিকভাবে  শামিল হতে পারেন নি। কেন্দ্র থেকে  এই দূরে অবস্থানের ফলে নব্বইয়ের কাব্য-আঙ্গিকের  সঙ্গে তাঁর একটা বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। তবে শামস আল মমীনের যে কাব্য প্রকরণ  সেটাও এক অর্থে অনন্যএবং এই কাব্য  ভাষা একান্তই তাঁর নিজস্ব।
 
শামস আল মমীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘চিতায় ঝুলন্ত জ্যোৎস্না’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। তারপর একে একে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর  কাব্যগ্রন্থ - মনোলগ(২০০১),সাম্প্রতিক আমেরিকান কবিতা (২০০৯),আমি সেই আদিম পুরুষ (২০১২),আমি বন্দী খোলা জানালার কাছে(২০১৪), কেউ হয়তো আমাকে থামতে বলবে (২০১৬), ও নির্বাচিত কবিতা (২০১৭)।  
২০২৫ সালে একুশের বইমেলায় জলধি থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর  সাম্প্রতিকতম কাব্যগ্রন্থ “টু ফরটি নাইন স্ট্রীট, বেলরোজ।”
এই গ্রন্থে মমীনের লেখা চুয়ান্নটি কবিতা স্থান পেয়েছে। কবি মমীনের একটা সংবেদনশীল,দয়াদ্র মনের পরিচয় ফুটে উঠেছে এইসব কবিতায়। গ্রন্থের শুরুতেই  রয়েছে ‘গরিবের মাছ-ভাত শিরোনামে একটি কবিতা।বাংলাদেশের একেবারে প্রান্তিক দরিদ্র মানুষের স্বপ্ন, বেদনার খন্ড খন্ড চিত্র  অংকিত  হয়েছে শিল্পীর মর্মস্পর্শী তুলির আঁচড়ে। এই সব অসহায়, ছিন্নমূল মানুষেরা যেন আবর্জনার মতই ময়লা ঝুড়িতে, এক কোনে চুপচাপ পড়ে থাকে।এদের বসবাসের জন্য স্থায়ী কোনো আবাস নেই। পথের ধারে, ফুটপাতে,ট্রেন স্টেশনে এরা রাত কাটায়। রাতের পরে সকাল হয়।এই সাইকেলের মধ্যদিয়েই বয়ে চলে এদের আনন্দ বেদনার দিনরাত্রি।
“টেলিফোন তারে বসে থাকা পাখিদের মতো
ভোরবেলা ঘুম ভাঙা চোখ, দু:খভরা মুখ,আর 
অন্তঃসত্ত্বা বধুর গোপনানন্দ চোখে মুখে ঝলসে ওঠে।”(গরিবের মাছ-ভাত)।
এই গ্রন্থে ‘’ বুয়া’ নামে  আরেকটি হৃদয়স্পশী কবিতা রয়েছে।’বুয়া’ পরিচয়ে ভদ্রলোকদের  বাসায়  গৃহস্থালি কাজে সাহায্য করেন যে সব নারী কবি তাদের জীবনের  সকরুণ চিত্র এঁকেছেন এই কবিতায়।বুয়ারা আমাদের ঘরবাড়ির  যাবতীয় কাজ করে দেয়।বিনিময়ে আমরা তাদের কিছু অর্থ দেই বটে,কিন্তু কখনো ধন্যবাদ দেই না। তাদের কোনো জমানো সঞ্চয় দূরে থাক,কাফন কেনার অর্থও থাকেনা। অথচ তাদেরও সাধ আহলাদ আছে। মাঝরাতের জ্যোৎস্না অথবা ছাদ বাগান থেকে ভেসে আসা ফুলের গন্ধ তাদেরও ভালো লাগে। 
কবি বলেন -

“ আমাদের বুয়া 
কাপড় কাচে, বাসন মাজে, ঘর মোছে। 
কিন্তু দিন শেষে কোনদিন তাকে বলি নাই 
থ্যাঙ্ক ইউ 
ফ্যানের হাওয়া, গরম রাতে, তার 
ফোঁটা ফোঁটা ঘাম মুছে দিয়েছিল কিনা; কিম্বা
বসন্ত বাতাসে ফুলে ফেঁপে ওঠা শাড়ির ফাঁকে উঁকি ঝুঁকি 
বুকের কাঁপনে 
রাত জেগে কেউ জ্যোৎস্না দেখেছিল কি-না  
জানতে চাই নাই কোনদিন।”(বুয়া)।
এই কবিতা গ্রন্থে ‘বাঙালি মন’ নাম দিয়ে  পনেরো টি কবিতার একটি সিরিজ আছে। আমেরিকায় বসবাস কারি বাঙালি মানুষের  কিছু ভাবনা এবং বৈশিষ্ট্য এইসব কবিতায় ধরা পড়েছে।ভালো-মন্দ মিলিয়ে বাঙালির কিছু চিরকালীন বৈশিষ্ট্য আছে, যা সে কখনোই ছাড়তে পারে না। এরকমই ছোট ছোট কিছু বৈশিষ্ট্য ধরা পড়েছে  এখানে। এবং এই কবিতার বুননে কবি সাবলীল ভাবে রংপুরের আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার করেছেন। এরকমই একটি কবিতা ‘বাঙালি মন-১৪’-- 
 বন্ধু আমার,মাঝে মাঝে হাওয়া বদলাইতে আসে 
দূরের শহর নিউইয়র্কে; আমারও তো মন চায় 
ভালো-মন্দ কিছু খেদমত করি তার। এক সন্ধ্যায়- 
আলো ঝলমল রেস্তোরায় গলদা চিংড়ি আর 
বিফ-স্টেক খেতে খেতে আমাদের 
অভাবী দিনগুলোর কথা বলি, আর 
হারানো দিনের সুখ সংবাদে ঝকমক করে উঠি!
শোফায় হেলান দিয়ে গল্পে গল্পে আমরা প্রায় মাঝ রাতে হঠাৎ 
দোস্ত আমারে কয়,‘রাত তো অনেক হইল রে- 
আমরা ভাত খাবো না?’ 
ঘুমঘুম চোখে আমি ফের কিচেনের দিকে পা বাড়াই। (বাঙালি মন-১৪)। 
একটা কথা আছে; ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। বাঙালি যেখানেই যাক, যত কিছুই খাক, ভাত না হলে তার  চলে না। শেষ পর্যন্ত ভাত তাকে খেতেই হয়। 
‘টু ফরটি নাইন স্ট্রীট, বেলরোজ’ কাব্যগ্রন্থের  বেশকিছু কবিতায় মেইনস্ট্রিম আমেরিকানদের কিছু  আত্মগত বৈশিষ্ট্য উন্মোচিত হয়েছে।এশিয়া বা আফ্রিকা থেকে কালো বা বাদামি বর্ণের যে সব মানুষ  আমেরিকায় আসে, সাদা আমেরিকানরা তাদের সাথে সাধারণভাবে মিশলেও  হোয়াইট সুপ্রিমেসি মনোভাব থেকে তারা বের হতে পারেন না।শামস আল মমীন নিজের জীবনেই এরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।আমেরিকার ওহাইও রাজ্যের সেন্ট্রাল স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে মমীন  ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে তিনি ঐ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন।ভেনেসা নামের এক ক্লাস ফ্রেন্ড ছিলো তাঁর। কোনো এক ছুটিতে ভেনেসা মমীন কে তার বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে ভেনেসার বাবার সাথে তাঁর পরিচয় হয়। সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে ‘'ইউ এইন্ট গুড লুকিং’ কবিতাটি রচনা করেন তিনি। 
“এন্টিওক কলেজ পার হতেই আমাদের গাড়ি থামে। দূর থেকে/ওর বাবা জোর গলায় জানতে চায়, হে ভেনেসা,হু ইজ দ্যাট গাই?’’/’বাংলাদেশ থেকে এসেছে ও বাবা; আমার সাথে পড়ে।’/
দীর্ঘদেহী  মিস্টার এন্ডারসন হাসতে হাসতে হাত বাড়িয়ে দেয়/হ্যালো, ইয়াংম্যান, ইউ লুকিং গুড বাট ইউ এইন্ট গুড লুকিং।’’
(ইউ এইন্ট গুড লুকিং)। 
ভেনেসার বাবা মমীন কে বলছেন,তোমাকে ভালো লাগছে বটে,কিন্তু তুমি দেখতে তেমন ভালো না। তেলের সঙ্গে জল  যেমন মেশেনা, সাদা আমেরিকানদের কাছে কালো বা বাদামি বর্ণের মানুষও তেমনি ভিন্নতর জাতের মানুষ।
একথা সত্য যে,আমেরিকার অনেক মহত্ত্ব আছে। সমস্ত পৃথিবীর বিচিত্র ধর্ম- বর্ণের মানুষকে আমেরিকা ঠাঁই দিয়েছে।শিক্ষা এবং প্রযুক্তিতে আমেরিকা পৃথিবীকে পথ দেখায়। আবার সাম্রাজ্যবাদী শোষণ এবং বর্ণ বিদ্বেষও বহাল থেকে গেছে এই একই সমাজে।
মমীন আমেরিকার বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। ২০২০ সালের ২৫মে আমেরিকার মিনিয়াপোলিস শহরের রাস্তায় জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গকে পুলিশ শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই ঘটনায় সাড়া পৃথিবীতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। মমীন এই নিষ্ঠুর হত্যাকা-ের প্রতিবাদে ‘আমেরিকা’নামে একটি কবিতা লেখেন। 
“আমেরিকা,জর্জ ফ্লয়েড  কে তুমি হত্যা করেছো।
যেভাবে পলাশীর প্রান্তরে সিরাজের সৈন্যরা নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলো/ঠিক সেরকম /বৃষ্টি ভেজা দোয়েলের মতো চুপচাপ ওরা দাঁড়িয়ে ছিল/আমরা দেখেছি। 
তোমার গোয়েন্দা বিভাগ দেখেছে 
সাকিরা,বিয়োন্সে গা ঝমঝম করা নাচ  থামিয়ে দেখেছে সেই দৃশ্য
ষাটোর্ধ রমণী প্রিয় নাতনীকে বেবী সিটিং 
করতে করতে দেখেছে  এই দৃশ্য 
আফ্রিকার কালো মানুষেরা পূর্বপুরুষের কথা মনে করে /আরও একবার কেঁদে উঠেছিল। 
দক্ষিণ এশিয়ায়  আঠারো কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ তার 
আটষট্টি হাজার গ্রামও দেখেছে এই দৃশ্য।”
(আমেরিকা)।
শামস আল মমীন মানবতাকে সব সময় ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। একটা অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন আমরা লক্ষ্য করি তাঁর  কবিতায়।বিশ্বের যেখানেই মানবতা লঙ্ঘিত হয়, মমীন তার প্রতিবাদ করেন। ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর রংপুরের পীরগঞ্জে কিছু সংখ্যালঘু বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কবি এই ঘটনায়  গভীর মর্মপীড়া অনুভব করেন।এবং এই আক্রান্ত  মানুষদের যন্ত্রণা, আহাজারি তাকে এতটা তাড়িতো  করে যে,এই একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করেই  তিনি তিনটি কবিতা লিখে ফেলেন যার সবগুলোই স্থান পেয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে। কবি সব ধর্ম বর্ণের মানুষকে নিয়ে একটি  সম্প্রীতিময় পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন। 
“টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া 
জাফলং থেকে সুন্দরবন -আর 
নীলাকাশে পাখামেলা সব পাখি আমাদের। 
বাবুই পাখির বাসার মতো 
হাওয়ায় দুলতে দুলতে ভেসে আসা 
ভাওয়াইয়া মুর্শিদী আমাদের। 
ধর্ম বর্ণ নারী ও পুরুষ 
সব  সমস্বরে 
ভোরের পাখির মতন কিচির মিচির 
হিন্দু মুসলিম ইহুদি খ্রিষ্টান বৌদ্ধ  কি প্যাগান- 
আমরা সবাই, গেয়ে যাই  এক প্রিয় গান 
‘এই পৃথিবী 
তোমার আমার ।’ 
(রুপকথা নয়)।
শামস আল মমীন পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান,তাঁর  হৃদয়ের গহন তলে বাংলাদেশ সবসময় সাথে থাকে।তারপরও  মাতৃভূমি থেকে এই দূরত্ব, এই বিচ্ছেদ কবিকে ব্যথিত করে,যন্ত্রণা দেয়। শৈশব- কৈশোরের ফেলে আসা স্বদেশের  নদী,ঝড়বৃষ্টি, রোদ, শস্য ক্ষেত, পাখি এমনকি দিগন্তজুড়ে  যদি বয়ে যাওয়া বাতাসও যেন সর্বক্ষণ তাকে সঙ্গ দিয়ে যায়।তাঁর হৃদয় মন কে অপার আনন্দে ভরে রাখে।
“ও আমার বৃষ্টি বদল ঝড়ো হাওয়া 
ও রোদ, থামাও তোমার উজালা হাসি 
ও বর্ষা, নদীকূল, প্রিয় জোসনা আমার 
হাওয়ায় ওড়া  বিড়ির ধোঁয়া;
ও আমার মাঝি ভাই 
পুটুলি মাথায় গ্রাম্যবধূ 
ঘাটে একা 
ও আমার সাজেক ভ্যালি, শুকনাছড়া 
কি সুন্দর ঝরা পাতা, ধানের গন্ধ 
হেমন্তের হাওয়া। 
কোন গাঁও থেকে আসো তুমি!  
ও আমার বসন্ত কোকিল, ঝির ঝির হাওয়া 
কোন গাঁও থেকে আসো তুমি 
দেহ মনে ভরে দাও এতো  প্রেম এতো জ্বালা।” 
((এত প্রেম এত জ্বালা)। 
এই কাব্যগ্রন্থে  কবি শামস আল মমীনের সংবেদনশীল মনের পরিচয় পাওয়া যায়।গ্রন্থভূক্ত কবিতার ভাষা মেদহীন, পেলব,সুষমাময়।গ্রন্থটি পাঠকপ্রিয়তা লাভ করবে বলে আমার বিশ্বাস। 

বইয়ের নাম: টু ফরটি নাইন স্ট্রীট, বেলরোজ
কবির নাম : শামস আল মমীন 
প্রকাশক : জলধি 
প্রচ্ছদ  : তাইফ আদনান 
 পৃষ্ঠা   : আশি 
মূল্য    : দুইশত পঞ্চাশ। 



অলংকরণঃ তাইফ আদনান