জলধি / পাঠ-পর্যালোচনা / জোৎস্না ও জননীর গল্প; গল্পের আবরণে মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য দলিল
Share:
জোৎস্না ও জননীর গল্প; গল্পের আবরণে মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য দলিল

বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ একটি অনবদ্য নাম। তাঁর সাহিত্য জগতে মহীরূহ হয়ে ওঠার পর দ্বিতীয় কেউ সাহিত্য জগতে আলোড়ন তুললেও তা হুমায়ূন আহমেদকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। এই কারণে তাঁর সময়কালকে বলা যায় হুমায়ূন যুগ। নন্দিত নরকে প্রকাশের পর থেকে হুমায়ূন আহমেদের যে উত্থান অসময়ে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা না গেলে আরও সৃষ্টিসম্ভারে সমৃদ্ধ হতো বাংলা সাহিত্য। আমার দৃষ্টিতে হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিতে কোনো অপূর্ণতা নেই। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ভূমি হিসেবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য যখন পাকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ চলছিল তখন হুমায়ূন আহমেদ টগবগে যুবক। মাত্র তেইশ বছরের যুবক। তিনি মুক্তিযুদ্ধে যাননি। প্রাণে বাঁচার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পীর সাহেবের আস্তানায়। এই আক্ষেপ তিনি করেছেন। সেই খেদ থেকেই কি না তাঁর হাত দিয়েই সৃষ্টি হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অসাধারণ সব গল্প, উপন্যাস, সিনেমা ও নাটক। এসব সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তৈরি হয়েছে। তবে এতকিছু করেও যখন তিনি নিজেকে ঋণমুক্ত করতে পারছিলেন না। কারণ এসব মুক্তিযুদ্ধের খন্ড অংশকে প্রেজেন্ট করে। তিনি চেয়েছিলেন পুরো মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরতে পারে এরকম একটি গল্প লিখতে। তখন তিনি হাত দেন জোৎস্না ও জননীর গল্প উপন্যাসটি। উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের একটি জলন্ত দলিল বললে অত্যুক্তি হবে না। তিনি এই উপন্যাসটি লিখেছেন অসুস্থ অবস্থায়। বইটির ভূমিকায়ই তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এই বইটির মাধ্যমেই তিনি ঋণ শোধের চেষ্টা করেছেন। বইটি অনেক প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করে দেয়। ইতিহাসের স্বাক্ষী ঘেঁটে তথ্যনির্ভর চরিত্র তৈরি করে সাহসী বক্তব্যের মাধ্যমে বইটি লিখেছেন। এমন কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তা আসলে সত্যিই অমিমাংসিত প্রশ্ন। বইটি কোথায় অসম্পূর্ণ সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন। এই উপন্যাসটিতে তিনি নারীদের উপর ঘটা নির্যাতনকে তুলে ধরতে পারেননি। এটাও লেখককে ভাবিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে হতাহতের ঘটনা সেসব আমাদের ইতিহাসে খুব একটা টানা হয় না। কেন হয় না? সত্য স্বীকার করতে সমস্যা কোথায়? সেই যুদ্ধে তো অনেক ভারতীয় সেনার প্রাণও গেছে। এই বিষয়টিও তিনি বলেছেন সাহসী স্বরে। বাস্তবে আমাদের সত্য স্বীকারে এই দ্বিধা আমাদেরও সম্মান খর্ব করে। কেউ কারও অবদান নিতে পারে না সেটাই তিনি বলতে চেয়েছেন। 


আরও একটি বিষয় খুব সহজ করে বলেছেন। কাজী নজরুল ইসলাম শ্যামা সঙ্গীত লিখলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইসলামী সঙ্গীত লিখেননি। কি ক্ষতি হতো লিখলে? এই প্রশ্ন তো এখন সামনে আসে। ঠিক এই জায়গাতেই কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথে থেকে উদারতায় এগিয়ে রয়েছেন এটা আমার নিজেরও মত। তিনি চাইলেই লিখতে পারতেন। মুক্তিযুদ্ধের তাঁর নিজের লেখা উপন্যাস বা ছোটো গল্প এবং অন্যান্য লেখকের লেখার সাথে এই উপন্যাসটির পার্থক্য খুবই মৌলিক। এটি শুধু গল্প নয় বরং একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্বাক্ষী। এটা হুমায়ূন আহমেদের জীবনের একটি তৃপ্তি যা তাকে লেখক হিসেবে আত্মতৃপ্তি দিতে পেরেছে। লেখার কাছে, দেশের কাছে একটি ঋণ যা উপন্যাসটির মাধ্যমে শোধ করতে পেরেছেন। খুব সাধারণভাবে একটি চরিত্র দিয়ে উপন্যাসটি শুরু হয়েছে। একজন শিক্ষক যিনি তার ভাইয়ের বাসা ঢাকার উদ্দেশ্যে আসেন। তখন ঢাকা শহরের অবস্থা উত্তাল। নির্বাচন শেষেও যখন বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পশ্চিম পাকিস্তান টালবাহানা করছিল তখন ঢাকা ছিল মিছিলের শহর। ইরতাজউদ্দিন নাম সেই শিক্ষক মশাল মিছিল দেখেনে। একটি ইতিহাসকে সেন্টার করে উপন্যাসটি এগিয়ে গেলেও এখানে সংসার আছে, মান-অভিমান এবং খুঁনসুটি আছে। ইরতাজ উদ্দীন সাহেবের ভাই শাহেদের স্ত্রীর সাথে তখন মান-অভিমান পর্ব চলছিল। সেই মান অভিমান নিত্যদিনকার সংসারের অংশ। খুব সাধারণ বিষয়, তীব্র ভালোবাসা, প্রেম এবং আবেগ মেশানো অনুভূতি রয়েছে গল্পের কাহিনীতে। কাহিনীর পরতে পরতে ছড়ানো মুগ্ধতা রয়েছে।

 
বাংলা সাহিত্য বা নাটক ও চলচ্চিত্র সব ক্ষেত্রেই এক অনন্য প্রতিভার নাম হুমায়ূন আহমেদ। না, তাঁর তুলনায় তিনি একাই মহারাজা। কারও সাথেই যেন তুলনা চলে না। একটি সৃষ্টি দিয়ে বিচার করছি না, সামগ্রিকভাবেই বলছি। তবে জোৎস্না ও জননীর গল্প বইটি একাই যেন তাঁর সমগ্র সৃষ্টির হাইলাইট করে। কয়েকটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ যা সেই সময়ের অনেক বুদ্ধিজীবী বিশেষত যারা পাকিস্তানপন্থী ছিলেন তারা করতেন। যেমন- বঙ্গবন্ধু যুদি স্বাধীনতার ডাক দেন এবং ভারতকে পাশে না পান তাহলে কী ঘটবে? পনেরো দিনের মধ্যেই সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। চীন পাকিস্তান ভেঙে যাওয়া চাইবে না এবং আমেরিকাও। ভারতের পাশে থাকবে সোভিয়েত ইউনিয়ন। (৮৫) এই যে লাইনগুলো এখানেই ঐতিহাসিক সত্যও লুকিয়ে আছে। হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য কাজগুলো সরল গতি-প্রকৃতির। অন্যান্য গল্প-উপন্যাসগুলিতেও তাই। সায়েন্স ফিকশন লিখেছেন কিছু। বেশ জনপ্রিয়। জোৎস্না ও জননীর গল্পও বেশ সহজ প্রকৃতির। একজন কবির চরিত্র তৈরি করা হয়েছে। আমাদের নাগরিক কবি যখন দৈনিক বাংলায় সাহিত্য পত্রিকায় ছিলেন তখন সেই কবির আগমন ঘটে গল্পে। খুব যে অর্থবহ চরিত্র তা নয়, তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্টতা, লেবাসে পরিবর্তন এবং আবার যখন দেশ স্বাধীনের দোরগোড়ায় তখন সেই বেশ-ভূষার পরিবর্তন করা, সমাজের গিরগিটি শ্রেণির মানুষ যেভাবে সেই সময় নিজেদের রং পরিবর্তন করেছিলেন সেরকম। লেখকের ২৫ শে মার্চ আসার বর্ণনা খুবই বাস্তব এবং অর্থবহ। দেশের টান টান উত্তেজনার মধ্যেই এই বিয়ে প্রেম ও ভালোবাসার মতো বিষয়গুলোও ছিল বাস্তব সত্য। 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র যে কয়েকদিন পরেই স্কলারশীপে বিদেশে যাবে এবং পুলিশ কর্মকর্তা যার ডিউটি দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে মূলত খবরাখবর সংগ্রহ করতে এই দুইয়ের বিয়েটা হুট করেই হয়ে যায়। অথচ তখন যুদ্ধ অপেক্ষা মাত্র। শেখ মুজিবুরের সাথে ইয়াহিয়ার আলোচনা ভেস্তে গেছে। সমস্ত অফিস আদালতে কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। যেসব অফিসের মালিক বিহারী তারা হয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গেছে না হয় অফিস করা বন্ধ করেছেন। ২৩ মার্চ পাকিস্তান প্রজাতন্ত্র দিবসে কোথাও পতাকা ওড়েনি শুধু তিনটি জায়গা ছাড়া। প্রেসিডেন্ট ভবন যেখানে ইয়াহিয়া থাকেন, গভর্ণর ভবন এবং এয়ারপোর্টে। ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশন এবং সোভিয়েত কনস্যুলেটে উড়েছে বাংলাদেশের পতাকা। এছাড়া চীন, ইরান, ইন্দোনেশিয়া এবং নেপাল পাকিস্তানের পতাকা তুললেও জনতার চাপে নামিয়ে ফেলে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ায় (পৃষ্ঠা ১৩৪)। এই বিবরণে স্পষ্ট হয় যে মূলত বাংলাদেশ মানুষের মনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অস্ত্র দিয়ে ধরে রাখার জুলুমবাজি ছিল বোকামি। এই অবস্থার মধ্যেই দেশে সেই ভয়ানক রাত শুরু হয়। তার বর্ণনা তিনি দিয়েছেন এভাবে- উপন্যাসের ১৩৬ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, শাহেদ যখন স্ত্রীকে না পেয়ে হেঁটে হেঁটে মাঝ রাতে বাড়ি ফিরছে তখন শহরে মিলিটারি নামলো।

 
তিনি পরের পৃষ্ঠায় লিখেছেন, আকাশে ট্রেসার উড়ছে। আকাশ আলো হয়ে উঠছে। তৈরি হচ্ছে আলোর নকশা। যেন কালো আকাশ ঝলমলিয়ে উঠছে উৎসবের হাউই বাতি। তারাবাতির মতো আগুনের ফুলকি বেরোচ্ছে মেশিনগানের মুখ থেকে। বাজির মতো শব্দের গুলি। অন্য ধরনের উৎসব। হত্যা ও ধ্বংসের উৎসব। সাধারণ মানুষ প্রথমটায় বুঝতে পারেনি কি ঘটছে শহরে অথবা ঘটতে চলেছে তাদের সাথে। যোগযোগ বিচ্ছিন্ন শহর। কুকুরগুলো উধাও হয়েছে। লেখকের বর্ণনায় রয়েছে সে রাতে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় এলাকায় চালানো নৃশংসতার কথা। প্রথমেই রয়েছে জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার কথা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দল তাকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে আনে। তাঁর স্ত্রী বাসন্তী গুহঠাকুরতা এবং কন্যা দোলার কথা রয়েছে। তাকে ঘরের বাইরে এনেই গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের বসার ঘরের সাথেই চিৎ হয়ে পড়েছিল ডঃ মনিরুজ্জামানের মৃতদেহ। একটু দূরে আরও তিনজন। আত্মভোলা ড. জি.সি দেব মারা যাওয়ার আগে প্রায় হাসিমুখে বলেছিলেন আমি হিন্দু। আমার বাড়িতে যারা আছে তারাও হিন্দু (পৃষ্ঠা- ১৩৮)। একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষককে নৃশংসভাবে হত্যার তথ্য দিয়েছেন। ছেলেদের ইকবাল হল,জগন্নাথ হল ও মেয়েদের রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলে তান্ডবের কথা রয়েছে বইটিতে। দৈনিক ইত্তেফাক, দি পিপলস, গণবাংলা ও  সংবাদ অফিসে ২৫ মার্চ রাতেই আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আতœনিমগ্ন কবি শহীদ সাবেরের পুড়ে মারা যাওয়ার মর্মান্তিক ইতিহাস লেখা হয়েছে বইটিতে। রাজারবাগে যারা হামলা চালায় তারা ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট। একদম সুপরিকল্পিতভাবে যে পাকিস্তান বাহিনী ঢাকা শহরে হত্যাযজ্ঞ চালায় সেটা উঠে এসেছে জোৎস্না ও জননীর গল্পে। শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করার বিষয়টি বিস্তারিত রয়েছে। গ্রেফতার করার পর রাত একটায় ওয়্যারলেসে ৫৭ ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জাফরের উৎফুল্ল কন্ঠে বলা- বিগ বার্ড ইন দ্য কেইস, আদারস নট ইন দ্য নেসটস ওভার। প্রথমেই বলেছি এই উপন্যাসটি মূলত ইতিহাসের এক দলিল বা স্বাক্ষী। 


এই একটি বই পড়লেই বাংলাদেমের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুরোপুরিভাবে না হলেও বহু অজানা তথ্য জানা সম্ভব হবে। লেখক সেভাবেই বইটি লিখেছেন। তার নিজের ঋণ শোধ করার সাথে সাথে পাঠককুলকেও আগ্রহান্বীত করেছেন দেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসগুলোর মধ্যে দীর্ঘ লেখা বেশি নয়। এর মধ্যে জোৎস্না ও জননীর গল্প বেশ দীর্ঘ। এর প্রধান কারণ কাহিনীর সাথে সাথে ইতিহাস পাঠ অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছে। এটা খুব সেনসেটিভ কাজ। একদিকে ইতিহাস টেনে নেওয়া এবং অন্যদিকে একটি কাহিনী যা মুক্তিযুদ্ধের সাথে রিলেটেড থাকে সবসময়। এটা রাখতে গিয়েই গৌরাঙ্গ নামে শাহেদের গভীর বন্ধুত্ব হয়। যুদ্ধের শুরুতেই গৌরাঙ্গের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলা হয়, স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায় এবং কোনোভাবে গৌরাঙ্গ বেঁচে যায়। খুব বড়ো বিষয় হলো তিনি এখানে তাঁর শহীদ পিতা ফয়জুর রহমানের একটি চরিত্র এনেছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুর মহকুমার পুলিশ প্রধান ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে তিনি নির্মম হত্যার শীকার হন। যুদ্ধ শুরুর পরে যখন ঢাকা থেকে ওয়্যারলেস ম্যাসেজে বলা হয়, দেশের সব থানা সেনাবাহিনী দখলে নিয়েছে এবং পুলিশ বাহিনীকে সামরিক বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগীতা করতে নির্দেশ দেওয়া হলো। তখন ওসি সাহেবের দুশ্চিন্তার জবাবে ফয়জুর রহমান বলেন, পুলিশ সবসময় দেশের মানুষের সাথে থেকেছে। এখনো আমরা তাই করবো। দেশের মানুষের পাশে থাকবো। (পৃষ্ঠা- ১৯৫)


যে সৃষ্টিতেই তিনি হাত দিয়েছেন সেখানেই ফলেছে পাহাড় সমান হীরে জহরত। যখন তিনি উপন্যাস লিখলেন তখনই ছাড়িয়ে গেলেন সবাইকে। আমাদের আশির দশকের প্রজন্ম নাটক চিনেছে হুমায়ূন আহমেদের কারণে, উপন্যাস বা গল্প পড়েছে হুমায়ূন আহমেদের জন্য। এক অদ্ভূত ভালোলাগা ঘিরে থাকতো পাঠক ও দর্শকদের। কাজের প্রতি একাগ্রতা তাকে হুমায়ূন আহমেদ তৈরি করেছে। তার গল্পে উপন্যাসে তৈরি করা চরিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত চরিত্র। কলিমুল্লাহ নামে যে কবি চরিত্রটি সৃষ্টি করা হয়েছে তার মাধ্যমে লেখক মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের অবস্থার একটি বাস্তবিক রূপ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যেমন ২৫ মার্চের পর ঢাকা শহরের অবস্থা স্বাভাবিক দেখাতে পাকিস্তান বাহিনীর প্রাণপন চেষ্টা করা। এটা বোঝানো যে যুদ্ধ হচ্ছে না, মুক্তি বাহিনী কিছুই করতে পারবে না এবং খুব দ্রুতই দেশ স্বাভাবিক হবে। কিছু মানুষ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগীতা করেছিল সেই তথ্যও রয়েছে। সত্যি এটা খুব সাহসী কাজ। ইতিহাস সত্যিকারভাবে লিখে যাওয়া কম কথা নয়। একটি দায় মেটানো, লেখক জীবনের আক্ষেপ ঘোচানো উপন্যাস হুমায়ূন  আহমেদের জোৎস্না ও জননীর গল্প।  



অলংকরণঃ তাইফ আদনান