প্রেমবাদ,মানবতাবাদ, প্রগতিবাদ ও প্রকৃতিবাদের সমন্বিত ভাব-দর্শনের কবি কামরুল বাহার আরিফ। ফলে তাঁর কবিতায় যুগপৎভাবে মথিত এবং জারিত হয় মানব-মানবীর আবেগ অন্বিত রতি-রসায়ন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক অবক্ষয়সহ বৈশ্বিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নানান বিষয়-আশয়। তবে এইসব নেতিবোধের পাশাপাশি তাঁর কাব্যের কোষে কোষে ক্রিয়াশীল থাকে প্রত্যাশা এবং প্রত্যয়ের ঈঙ্গিত। তাঁর শব্দচয়ন, বাক্যবিন্যাস এবং বাগরীতি -- সবকিছুতেই একধরনের বিশিষ্টতার আভাস পাওয়া যায়। একইরূপে তাঁর বিষয়, বিভাব ও ভাষার মিথস্ক্রিয়াতেও পরিলক্ষিত হয় শিল্প ও মনন-চারুত্বের স্বাতন্ত্র্য এবং নান্দনিক বৈভব।
কবি কামরুল বাহার আরিফের প্রেমবোধ সবাক, অবাক, মৌন, উচ্ছ্বসিত, স্থিত, ও সমাহিত -- সবরকমেই চিত্রিত এবং বিধৃত হয়। এ প্রেমে একদিকে যেমন গভীর মনস্তত্ত্বের অভিমন্থন থাকে, আরেকদিকে ঠিক তেমনই আবেগ ও দেহগত রিরংসার দুর্বিনীত আকর্ষণও থাকে। অর্থাৎ এই কবির প্রেম-দর্শনে প্ল্যাটোনিক, ইমোটিভ ও প্যাথোনোয়েটিক আবেশের পাশাপাশি দেহজ কামতাড়না তথা কারনালিটি ও সেন্সুয়ালিটির মেহন-ত্বরণও সমুপস্থিত। তাঁর প্রেমবিষয়ক অভিভাষণ দাম্পত্যিক নাকি বিদাম্পত্যিক তা মূখ্য নয়। বরং প্রেম যে হৃদয়ঘটিত মানবিকতার বিভাস এবং আবেগোদ্গত আকুতির নিবিড় আবাহন তারই সপ্রাণ বাঙভাষ্য তাঁর কবিতার শব্দবয়ন। আরিফের প্রেমকাব্যের চরণে চরণে প্রতীক ও রূপকাশ্রিত বোধিবার্তার অন্তকীর্ণন স্পষ্ট। তিনি মনে করেন প্রেমের স্পর্শ পেলে সৃষ্টির স্ফূরণ ঘটে স্বতঃস্বজ্ঞায়। দ্বৈতের মিলনে বহুত্বমখী একত্বের উন্মেষ ঘটে, আর তা থেকে উদ্বোধিত হয় বহুস্তরিক বৈচিত্র্যের প্রাণন, ব্রাজন। সংঘাত অপসৃত হয়, জন্ম নেয় জৈবনিক প্রশান্তির নন্দনকলা। জীবন সমবেত হয়,সমাহিত হয়; অর্জন করে চিত্তশ্লাঘার মহাকাব্যিক পূ্র্ণায়ন। এতদসংক্রান্ত অধিভাবনায় কবি বলেন-
"যদি একবার তুমি আমার স্বপক্ষে তাকাও
ঠোটটা শিহরিত হয়, তোমার গ্রীবার কসম
আমি এক মহাকাব্য রচনা করবো নিমিষেই
বুকে রচে দিবো সমুদ্রের যত ঢেউ
তারপর আবার যদি প্রশান্তিতে ঘুমিয়ে যাও
দেখবে, তুমিও তখন আমারই স্বপক্ষে ঘুমাচ্ছ
--------------------------------------
--------------------------------------
তোমার বুকের ওঠানামা আমারই স্বপক্ষ হচ্ছে
যত স্বপক্ষ হচ্ছে, যত নিকটবর্তী হচ্ছে
তত কবিতা হচ্ছে, ততই গ্রন্থিত হচ্ছো
আর আমি আমার কসমের কথা রেখে
তোমার নাভিমূলে রাখছি একটা একটা মহাকাব্য।"
{যদি আমার স্বপক্ষে একবার তাকাও/ "ইজেলে উঠুক চড়ে ইনানী মেয়ে"}
এখানে রতিসম্ভোগ প্রসূত অন্তর্লীন কামসুখের কথা রয়েছে, পক্ষাপক্ষের অবলোপন সাপেক্ষে মিলনোদ্গত সৃষ্টিশক্তির উদ্গমনের কথা রয়েছে। তবে অবশ্যই তা প্রতীকী ব্যঞ্জনায় সঞ্জাত। কারণ নরনারীর যৌনমিলন কেবলই দেহগত অভিব্যক্তির শিৎকার ও শিহরণ মাত্র নয়, কেবলই রতিরমনের উত্তপ্ত এবং উন্মত্ত উল্লাস নয়। এটি জীবনের সংজনন ও উজ্জীবনের শাশ্বত সংস্কৃতি, বিজ্ঞানসম্মত বিনোদন ও সৃষ্টি-যোজনার চিরায়ত প্রমোদকেলি। তাই কবির আরাধ্য প্রণয়িনী যত তাঁর স্বপক্ষ হন,যত সন্নিবর্তী হন তত কবিতা সৃষ্টি হয়, ছন্দ স্বর ও ধ্বনিব্যঞ্জিত শিল্পের অর্ঘ্য তৈরি হয়, উদ্বোধিত এবং উন্মুক্ত হয় সৃষ্টির শতপথ ; আর তাঁর ভালবাসার নারীটি হন গ্রন্থিত,তথা প্রগাঢ় পূর্ণতায় সমাকীর্ণ এবং সমাহিত। এই গ্রন্থিত তথা প্রেমমেহনে পরিস্নাত রমনীর গহীন গহণে উদ্ভূত হয় সৃষ্টির উৎপ্রেষণ ও প্রাণপ্রাচুর্যের অপার সম্ভাবনা। সুতরাং কবির বলা এই 'কবিতা' কেবলই ভাষা ও ছন্দ-দ্যোতনার নন্দন-খচিত ভাবের বাণী নয়। এর ভিতরে রয়েছে রূপক ও প্রতীকাশ্রয়ী অর্থ-ব্যঞ্জনার নৈয়ায়িক দ্যোতনা। এটি মূলত উভয় পক্ষের স্বেচ্ছা-সমর্পণে সংঘটিত সৃষ্টির এষণাঋদ্ধ ইন্দ্রিয়-পুলকের প্রসাদ-লীলা; এবং রমন-মন্থনে গ্রন্থিত এই কমনীয় রমনী সেই সৃষ্টি-অন্বেষার জনন-বেদ ও প্রাণপ্রসূ পূণ্য-ভূমি। এভাবে এখানে কবি অতিউচ্চকোটির এক অধিবৌধিক ভাবকল্প নির্মাণ করেছেন। পাঠকের মননপাতে উপস্থাপন করেছেন নৈর্ব্যাখ্যিক রহস্যের ঘন-উপচার।
নবসৃষ্টি ও নবজন্মের জন্য সৃষ্টির উৎস মৃত্তিকাসম প্রেয়সীকে উন্মুখ করতে হয়, উদ্বুদ্ধ করতে হয়। তাঁকে ইন্দ্রিয়-আবেশে উষ্ণিত এবং উৎকাঙ্ক্ষী করতে হয়। সৃষ্টিযজ্ঞে সক্রিয় হওয়ার আহ্বানে তাঁর কাছ থেকে সাড়া পাওয়ার জন্য তাঁকে সময় দিতে হয়, তাঁর চেতনা জাগৃতির জন্য আহ্বানকারী তথা প্রেমিক প্রবরকে অপেক্ষা করতে হয়, ধৈর্য্য ধারণ করতে হয়। অপেক্ষার এই অন্তবর্তী মুহূর্তগুোলোও আবার কামকাতর নাগরের চিত্তে বিকল্পসৃষ্টির মৌন ব্যসনের জন্ম দেয়। সৃষ্টি-এষণার এই মনোদার্শনিক অধিপাঠ ও অভিজ্ঞান কামরুল বাহার আরিফের সহজাত বোধিআখ্যানে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই উপস্থিত ব'লে প্রতীয়মান হয়। তাই তিনি তাঁর শয়নসঙ্গে থাকা নিদ্রাচ্ছন্ন দয়িতার নিদ্রা ভাঙাতে যান না। প্রেমরোমাঞ্চের শুভক্ষণের জন্য তিনি প্রতীক্ষায় থাকেন। আর সেই সময়ে কবির প্রণয়-পিয়াসী কল্পনার রঙিন জমিনে অঙ্কুরিত হয় অগ্রন্থিত মহাকাব্যের মৌন কিশলয়। পূর্বোদ্ধৃত কবিতার নিম্নোল্লিখিত পঙক্তিগুলোতে কবির এবঙবিধ উপলব্ধির সাক্ষ্য পাওয়া যায় ---
" তোমার স্বপক্ষে আমি যত রাত জেগেছি
ততরাত এক একটা কবিতা বুনেছি এ মনোজমিনে
কাগজ- কলমের অস্থির শব্দে
তোমার ঘুম ভেঙে যাবে ভেবে
কবিতারা অগ্রন্থিত থেকেগেল-"
প্রিয়তমা প্রেমিকার জন্য কবির মন এতটা সংবেদনশীল, এতটা অনুরাগস্নাত যে কাগজ-কলমের শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যেতে পারে বিধায় তিনি কবিতার শরীরী রচনা থেকে বিরত থাকেন। কবিতার সমস্ত ভাব ভাষা ছন্দ ও ধ্বনি গচ্ছিত রাখেন তাঁর কল্পাবেগের গহীন বোধিতে। অতঃপর যখন সে কামিনীর রতি-রসনা জাগ্রত হয়, রমন-বাসনা উজ্জীবিত হয়, তথা যখন সে রমনী প্রেমিক-কবির স্বপক্ষে সাড়া দেন এবং সে ললনার বুকের ওঠানামা কবিকে তাঁর স্বপক্ষে টেনে নেয়, তখনই সৃষ্টি হয় অদূষ্য কবিতার অজর পঙক্তিমালা। নারী-প্রণয়ের রাগাসক্তিমূলক এমন অসংখ্য চরণের সাক্ষাৎ মেলে কবি কামরুল বাহার আরিফের নানান কবিতায়। তাঁর "ইজেলে উঠুক চড়ে ইনানী মেয়ে" কাব্যগ্রন্থে উৎকলিত এরকম কিছু উজ্জ্বল চরণ নিম্নরূপ --
"ও রমনী বাঁধো খোপা -- বেলা বয়ে যায়
দুকূল ছাপিয়ে নদী -- কুল ডোবে হায়!"
(কুল ডোবে হায়)
"ভুলে গেছি উট কিম্বা সেই নদীর কথা
শুধু জেনে গেছি রাতের প্রহেলিকার জলজ মায়ায়
রাত যত গভীর হয় আফ্রোদিতিরাও তত মায়াবিনী হয়।"
(প্রহেলিকা)
"রাতের গভীরে আমাদেরও অশ্লীলতা নেই, আছে প্রেম
চলো, প্রম শেষে ফুটন্ত আলোয় স্নান ক'রে
বুক ভরে শ্বাস নেই পৃথিবীর পথে।"
( স্নানে অশ্লীলতা নেই)
"তখন সমস্ত প্রেমের নদী জেনে যায়
প্রেম পরিমাপহীন এক অতল গহীন আদালতী আসন
যেখানে প্রেমের রায় লেখা হয় প্রেমেরই পৃষ্ঠায় -"
কোনো ব্যক্তির মানস-সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিত্বের উজ্জ্বলতায় কবি কামরুল বাহার আরিফ কতটা অভিভূত হন, কতটা অনুরক্ত হন তার একটি চিত্র-দর্পন কবি ও কথাসাহিত্যিক রোকেয়া ইসলামকে নিবেদিত কবিতা "নীলছোঁয়া মায়ার নদী"। এখানে কবি এই মানবীর মানবীয় উচ্চকীয়তার কাছে নিজের হেরে যাওয়ার কথা বলেন। তবে এই অনুরক্তি ও হেরে যাওয়া মূলত মানুষের মানবীয় মহত্ত্বের প্রতি কবির চিত্ত-নিঃসৃত ভক্তি ও ভালবাসারই আপাতবিরোধী প্রকাশ। মানুষের গুণের কাছে হেরে যাওয়া মানে সেই গুণ নিজের ভেতরে ধারণ করা, পোষণ করা; অর্থাৎ স্ব-সত্তার আত্মিক উন্নয়ন সাধন করা। অন্য কথায় হেরে যাওয়ার নামে মানবিকতার মাঠে বিজয়ী হওয়া। অসাধারণ কাব্য-কৌশলের মাধ্যমে কবি কামরুল বাহার আরিফ এই দার্শনিক মনস্তত্ত্বের ভাবদ্যোতনা উপস্থাপন করেছেন নিম্নরূপে --
" আমি নীলছোঁয়া নদীটার কাছে হেরে যাই
----------------------------------
নীলছোঁয়া নদীটা আমাকে চিরকাল
হেরে যাওয়ার পাঠ শিখিয়ে
আমাকেই জিতিয়ে যায়
এক সান্ধ্য হৃদয়কে অজেয় ক'রে।
---------------------------
সে তো এক নীলছোঁয়া মায়ার নদী
যার কাছে হেরে হেরে জিতি নিরবধি। "
কামরুল বাহার আরিফের কবিতা সম্পর্কে ভারতের দিল্লি নিবাসী বাঙালি কবি প্রাণজি বসাক বলেছেন -- "কবি কামরুল বাহার আরিফ নিজেকে নিংড়ে তুলে আনলেন অমোঘ উচ্চারণ, 'কান্না জীবনের রসায়ন'। আবার পাই কবির প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ সবুজ রঙের তন্ময় সমাহার। তিনি তাই অসংকোচে বললেন, 'পৃথিবীর যত বন ও সুন্দরবন / সব যেন কান্নার সমবেত সবুজ মিনার'।" হ্যাঁ,আমরাও তাই মনে করি। প্রকৃতির বুকে কান পেতে এই কবি জীবনের কান্না শুনতে পান। কবি তাঁর মর্মগহনে অনুভব ও প্রত্যক্ষ করেন ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান ও রাখাইন তথা আরাকানের বিপন্ন শিশুদের আতঙ্কিত অবয়ব। তাঁর মুখে উচ্চারিত হয় --
"তখনই একটা মাছ ঘাই মেরে জলের নৈঃশব্দ্য ভেঙে
সশব্দে জানিয়ে দিলো -- আফগান কিংবা ফিলিস্তিনের
মৃত্যু আতঙ্কিত শিশুদের বিপন্ন মুখের রক্তাক্ত চেহারা"
( জাতিরাষ্ট্র দিবে না সুপেয় জল) {ইজেলে উঠুক চড়ে ইনানী মেয়ে}
এই কবিতায় মাছের চিত্রকল্পটি একটি রহস্যময় শক্তির প্রতীক এবং একইসঙ্গে সেই শক্তির স্বেচ্ছাকৃত ইচ্ছারও প্রতীক। এই শক্তি যেভাবে ঘাই মারে সেভাবেই কোনো কোনো জনগোষ্ঠী উদ্বাস্তু হয়, এবং সেভাবেই এই উদ্বাস্তুদের জীবন নিয়ন্ত্রিত হয়। জাতি, ধর্ম, গোত্র, গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক বিভাজন ও বিদ্বেষ সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো তাদের প্রতিপত্তি ও আধিপত্য বজায় রাখার নিষ্ঠুর খেলায় মত্ত থাকে। এমনই এক অমানবিক গুটিচাল খেলার করুণ শিকারে পরিণত হয়েছেন বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দশ লাখেরও অধিক মানুষ। তাঁরা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নাফনদী পার হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শরনার্থী শিবিরে। বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার অপ্রতুল সাহায্যে তাঁরা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের সন্তানেরা নিপতিত হচ্ছে স্বপ্নহীন, নিশ্চিতিহীন ভবিষ্যতের অতল অন্ধকারে। বঙ্গোপসাগরের গভীর জোনের ভাসানচরে তাঁদের জন্য নির্মিত হয়েছে জলবেষ্টিত এক নির্বাসনী আশ্রয়শালা। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই বিজন ভাসানচরে যেসকল রোহিঙ্গা পরিবারকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে তাঁরা মূলত নির্বাসিত হয়েছেন। বিশাল সাগরের বুকে তাঁদের সন্তানদের অপার সম্ভাবনার জীবন পরিনত হয়েছে চৌবাচ্চাসম পুকুরে। কিনারাহীন সাগরের বুকে তৈরি হয়েছে গতিহীন, স্রোতহীন বিন্দুজলের ডোবা। তারা রাষ্ট্রহীন,তারা অনাগরিক। তাদের জাতিত্বের পরিচয় লটকে আছে অশুভ বিশ্বশক্তির অশ্লীল সংজ্ঞায়নে। কোনো জাতিরাষ্ট্র তাদের নিচ্ছে না,নিবে না। তারা রাষ্ট্র পাবে না, পরিচয় পাবে না। এমন করুণ এক অমানবিক বাস্তবতাকে সুগভীর আবেগ ও মমতার আস্তরণে উৎকীর্ণ করেছেন কবি কামরুল বাহার আরিফ। বিরোধাভাসের ছন্দাভরণে উপস্থাপন করেছেন বেদনাবিধুর এক প্যারাডক্সিক্যাল সত্যের স্বরূপ। পর্বোক্ত কবিতায় তিনি বলেছেন --
"তাদের শেকড় কখনও মাটির মমতা পাবে না
শিখরে উঠবে না তাদের বেঁধে দেয়া বনসাইস্বপ্ন
জাতিরাষ্ট্র তাদের নিবে না, দিবে না সুপেয় জল
গভীর সমুদ্রের মানবিক ভাসানে শিশুদের কোলাহল যেন
সেই আবদ্ধ পুকুরের গভীর জলের নির্বোধ বুকে
এক একটা মাছের এক একটা নির্মম ঘাই।"
কামরুল বাহার আরিফ সহজাত কাব্য-প্রতীভায় ঋদ্ধ এক শিল্পস্রষ্টা। তাঁর কাব্যজগত নানা-কৌণিক ভাবের ব্যঞ্জনায় দীপ্ত। তাঁর কবিতার শিল্পরূপ শৈলী-নৈপুণ্যে উজ্জ্বল। সুতরাং বাংলা কবিতার মহাসড়কে চলমান যে কাব্য-ক্যারাভান কামরুল বাহার আরিফ তার অনিবার্য এক শক্তি-সারথী।
অলংকরণঃ তাইফ আদনান
