কথাশিল্পী নাসরীন জাহান (জন্ম : ৫ মার্চ ১৯৬৪)। বিশ শতকের আশির দশকে একটি বিশেষ সাহিত্য-প্রসারের কালে তাঁর আবির্ভাব। প্রায় তিন দশককাল কথাসাহিত্যে উৎকর্ষের পথ পাড়ি তাঁর। এরপর পাড়ি দেন আত্ম-অতিক্রমের বিভিন্ন বাঁক ও প্রতিকূলতা। তিনি বাংলা কথাসাহিত্যের এক বিদগ্ধ কথাশিল্পী। কাঙ্ক্ষিত লেখার পথে এক সোচ্চার গল্পকার।
‘ছোটগল্পে মৃত্যু চিন্তা’- প্রবন্ধে অরিন্দম হাসান লিখেন, “আশির দশকের বাংলা ছোটগল্পে এক স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত নাম নাসরীন জাহান। কৈশোর থেকে তিনি বিশ্বসাহিত্য মন্থন করে তিলে তিলে নিজেকে প্রস্তুত করেন। তাঁর পাঠস্পৃহা, শ্রম-নিষ্ঠা এবং সহজাত বিরল সৃজনক্ষমতা অল্প বয়সেই তাঁকে এক বিস্ময়কর পরিপক্ব লেখকের মর্যাদা দিয়েছে”।
ড. ফজলুল হক সৈকতের ভাষায় : “নাসরীন তাঁর চিন্তার পরিবেশন ভঙ্গিতে সাফল্যের সাথে যুক্ত করতে পেরেছেন আন্তর্জাতিক আবহ ও প্রকাশ-প্রযুক্তি। নান্দনিকতা ও সংবেদনশীলতায় তাঁর গদ্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং ভাবনা-উদ্রেককারী। কল্পনায় ভর করে বাস্তবের গভীরে প্রবেশ ও সত্য-অন্বেষা, মনঃসমীক্ষণ, ব্যক্তির আর্থিক কষ্টের উপাখ্যান, মানুষের পরাজয়-গ্লানি-বিরক্তির ক্যানভাস তৈরিতে তিনি সতর্ক শিল্পী বলে মনে করা হয়।”
নাসরীন জাহানের আত্ম মূল্যায়নের ভাষা ছিল এরকমঃ “ক্রমান্বয়ে চেষ্টা করেছি গল্প নিয়ে বহুমাত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার, যে নিরীক্ষার ফাঁকে আটকে থাকে যে-কোনো শিল্পের চিরায়ত সত্য-প্রাণ, সেটা যেন না হারায়।... তাই কাঙ্ক্ষিত লেখাটির স্বপ্নে প্রতিদিন হাঁটি। সেই হাঁটা কখনো প্রথাবদ্ধ, কখনো সুররিয়ালিজম, কখনো যাদুবাস্তবতা, কখনো হয়ে ওঠে প্যাঁচ গোজের ফাঁস থেকে বেরিয়ে সরল ধারায় হাঁটার পথ... আমি লিখি না, লেখার মধ্য দিয়ে নিজেকে বদলে বদলে হাঁটার চেষ্টা করি।’ (ভূমিকা, নির্বাচিত গল্প, অন্যপ্রকাশ ২০০২)
‘আমাকে আসলে কেমন দেখায়’ গল্পটি পাঠ করতে থাকলে আমরা ধীরে ধীরে প্রবেশ করি মানসিকভাবে অস্বচ্ছল একজন মানুষের আত্মপ্রতিফলনের বিপরীতের কোনো অজানা অন্ধকারে। মানুষটি তার নিজের আপন অস্তিত্বও আবিষ্কার করতে পারতো না, যদি না এই মন্তব্যটি না শুনতো: ‘একজন শুধু বলেছিল, তোমাকে ভদ্র দেখায় না।’ অবশ্য তারপরও অনবরত চাকরি খুঁজবার কালে ‘ছায়াসিঁড়ি টপকে অভিজাত ড্রয়িংরুমে’ প্রবেশ করা এই মানুষটি তার ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে চারপাশে সামাজিক পরিচিতির প্রয়োজনটাকেই অনুভব করেছে। নিজের রুচিবোধের দারিদ্র্য এবং আপাত অভদ্রতা বিষয়ে সে একটি ব্যাখ্যা অন্তত খুঁজে বের করতে পারে। ‘শূন্যপতন’- গল্পে গল্পকার অত্যন্ত সাহসের সাথে ওই অপ্রকাশ্য সত্যটিকে শিল্পের মোড়কে পেঁচিয়ে পরিবেশন করেছেন। ‘সুলেখার মাথা থেকে পিঠের দিকে যেতে থাকা’ অধ্যাপকের ‘তরঙ্গিত হাত’ লেখক দেখতে পেয়েছেন। আর বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো বিপন্ন এই শিক্ষকের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে তিনি গল্পটির সমাপ্তি টেনেছেন: ‘উবু হয়ে জলের মধ্যে নিজের মুখটা রাখতেই চশমা ভেসে যায়... অধ্যাপক বিচলিত অস্থির হয়ে ছটফট করে উঠেন, জীবনে একবারও একটা বিচ্যুতিও ঘটবে না? আশ্চর্য! ওরা কি আমাকে মানুষ মনে করেনি?’
ধর্ষণের ফলে গর্ভপাত এবং নারীরঅস্তিত্ব-সংকটের প্রতিপাদ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘কাঁটাতার’ গল্প। কাহিনির বিন্যাস অগোছালো ঠেকলেও আসলে- যেখানে জীবন ও সংসার স্থির ও সুবিন্যস্ত নয়, তাই চরিত্রের বাস্তবতা ও তার চারপাশের সত্যকে নিয়েই কাহিনি আবর্তিত। ধর্ষিত নারীর যৌনসুখ কিংবা মাতৃত্বের হাহাকারের মধ্য দিয়েও তিনি কেবল সাজিয়েছেন চরম বাস্তব। যে যুবতী স্বামীতে অতৃপ্ত।
কিন্তু আমরা জানি, সমাজ মানুষের কামনাকে মূল্য দেয় না। কুন্তলা নামের যে মেয়েটিকে এই গ্রামে ২১ বছর ধরে পায়ে হেঁটে বড় হতে দেখেছেন, এবং অবশেষে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী এই প্রকৃতিকন্যা কুন্তলার জীবনে নেমে আসা কান্না আর অন্ধকার-অধ্যায়ের অন্তরালে বানিয়েছেন তার মাতৃত্ববোধের উজ্জ্বলতার এক স্বপ্নজগত।
‘খোঁড়া দৌড়বিদ’ গল্প। তিনি তেজী ও অহংকারী মানুষের পতনের কাহিনি এবং পরবর্তীকালে তৃষ্ণা ও প্রচেষ্টা নিয়ে তার বেঁচে থাকার স্বপ্ন সাজিয়েছেন। এক অহংকারী মানুষ যে কি-না গ্রামের আর সকলের চেয়ে অনেক বেশি দৌড়াতে পারতো, তার মানসিক অবস্থার বিবরণ দিচ্ছেন গল্পকার: ‘একসময়, তার ছিল ভয়ানক অহঙ্কার।... বউকে ভাত খেতে খেতে বলত, অত কীসের ফষ্টিনষ্টি গপ্পো পাশের বাড়ির বৌ-ঝিগোর লগে? দূরত্ব রাখবি, ওরা তোর সমান?... বেবাকের লগে গা মিশায়া চললে ওরা আমারে সাধারণ মনে করব। তুই মানুষরে চিনস না।’ খ্যাতিমান অথবা খানিকটা প্রতিভাবান হলে আমরা কেমন আর সব মানুষ থেকে নিজেকে আলাদা করে রাখতে অভ্যস্ত, তার একটা সরল ছবি এখানে প্রকাশ পেয়েছে। এবং ছোটপরিসরের গল্পে লেখক এই অহংকারী দৌড়বিদের পতন নিশ্চিত করার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় আয়োজন সম্পন্ন করেছেন- লোকটির পা কেটে ফেলার জন্য তার ঘরে রাতের অন্ধকারে লোক ঢুকিয়েছেন; তাকে বিকলাঙ্গ করে গঞ্জের হাসপাতালে পাঠনোর ব্যবস্থা করেছেন। অবশেষে লোকটির উত্তরাধিকারের কাঁধে তার স্বপ্নের প্রত্যাশিত-অসামান্য ভার চাপিয়ে দিয়েছেন। একসময়ের তুখোর দৌড়বিদ বর্তমানে পঙ্গু।
মানবিক বিপন্নতাকে এক বিশেষ আবহের মধ্য দিয়ে পরিবেশন করেছেন কথাশিল্পী নাসরীন জাহান তাঁর ‘এক রাতে, রেস্তোরাঁয়’ গল্পে। ইংরেজি নববর্ষে শহরের রিকশাঅলার আনন্দ আর কিশোরের তারুণ্য দেখে সে ভেবেছে: ‘প্রতিদিনের শহর যদি এমন হতো?’ কিন্তু ‘বস্তাপচা’ পুরনো বছর পেরিয়ে আমরা যখন ‘সাংঘাতিক সুন্দর একটা জীবন’ লাভের আশায় বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে বহুলোক মদ্যপানে নতুন ধান্দায় ব্যস্ত থাকে। আর তাঁর এক অনুভবও আমাদের চিন্তার সাথে মিলিয়ে যায়: ‘যে-কোনো ভাবে হোক বাঙালি ফুর্তি করছে, সে নিজেও করতে পারলে নিজেকে তার ভাগ্যবান মনে হতো। বরং একটা বিষয়ে তার আফসোস হয়, বাংলা নববর্ষকে যদি রাতের এরকম প্রহর থেকে বরণ করার প্রথা চালু থাকত? রাত বারোটার পর থেকে গান, অনুষ্ঠান, মন্দ কী?’-এই অনুভব সাধারণ নাগরিকের। সাধারণের মনের কথাকে সরলভাবে ফুটিয়ে তোলার কারিগর যেন এ কথাশিল্পী।
‘যে অন্ধ লোকটি রঙ দেখতে জানত’ গল্পটিতে স্বপ্ন-বাস্তব, ব্যক্তির একান্ত অস্তিত্ববোধ আর আপন ভুবন নির্মাণের চিত্র উপস্থাপন করেছেন গদ্যশিল্পী নাসরীন জাহান। গল্পটিতে কাহিনিকার এক অন্ধ ভিখিরির স্বপ্নকে আর তার রঙ-প্রীতিকে সাজিয়েছেন ব্যক্তিগত অনুভবে। লোকটি রঙ দেখতে জানে। মায়ের রঙ, চাঁদের রঙ, ভাতের রঙ, বাতাস-তারা ও রাত্রির রঙ যেন সে দেখতে পায় উপলব্ধির গভীরে। তার এই আশ্চর্য ক্ষমতাকে নিয়ে ব্যবসার জাল পাতে এক মতলববাজ। অতঃপর রঙনির্ভর এক ব্যক্তিগত অনুভব সবার হয়ে পড়লে ভিখিরি লোকটি নিজস্ব ভুবন থেকে ছিটকে পড়ে। তার স্বপ্নে জগত অন্ধকারে মিশে যায়।
নাসরীনের গল্পে ব্যক্তির অস্তিত্ব ও সম্ভাবনার কথা আছে। আছে সমাজ-পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের দায় ও দায়িত্বের কথা।
নাসরীন জাহানের গল্পগুলোতে জীবনের গভীরতা, মনোবৈকল্য, দারিদ্র্য এবং নারীদের জীবন সংগ্রাম চিত্রিত হয়েছে। তিনি রূপকথার ঢঙে কাহিনী নির্মাণেও পারদর্শী। তার লেখায় মূলত মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক প্রেক্ষাপট, এবং নারী-পুরুষের সম্পর্ক প্রাধান্য পায়। তার রচনার ভাষা সাবলীল ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের জন্য পরিচিত। নাসরীন জাহানের উল্লেখযোগ্য কিছু গল্পের মধ্যে রয়েছে ‘স্থবির যৌবন’-এটি তার প্রথম দিকের একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ, যেখানে জীবনের জটিলতা এবং নারীর মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‘বিচূর্ণ ছায়া’-এ গল্পগ্রন্থেও সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন স্থান পেয়েছে। ‘পথ, হে পথ’-এটি একটি বিখ্যাত গল্প, যেখানে জীবনের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা এবং অনিশ্চয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ‘সারা রাত বিড়ালের শব্দ’ এ গল্পগ্রন্থেও ব্যক্তিগত জীবনের সংকট এবং চারপাশের পরিবেশের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়াও, তিনি “উড়ুক্কু”, “চন্দ্রলেখার জাদুবিস্তার”, “যখন চারপাশের বাতিগুলো নিভে আসছে” সহ বেশ কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন। তার উপন্যাসগুলোতেও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক অস্থিরতা এবং জীবনের গভীর দিকগুলো প্রকাশিত হয়েছে।
সমালোচকেরা বলেছেন, নাসরীন জাহানের গল্পের মূল বৈশিষ্ট্য হলো মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। যেমন তার গল্পগুলোতে মানুষের মনের গভীরে লুকানো অনুভূতি, চিন্তা এবং দ্বিধাগুলো চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। আরেকটি হচ্ছে - বাস্তবসম্মত চিত্রায়ণ। এতে করে তিনি সমাজের সাধারণ চিত্র এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে তার লেখায় তুলে ধরেন, যা পাঠককে সহজে আকর্ষণ করে। তাঁর ভাষা শৈলী অপূর্ব ও একান্ত নিজস্ব। তার ভাষা সহজ ও প্রাঞ্জল, যা গল্পটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
তিনি নারীর মনস্তত্ত্ব এবং সমাজের প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান নিয়ে বিশেষভাবে লিখেছেন। এমনি করে নাসরীন জাহানের গল্প ও উপন্যাস উভয় মাধ্যমেই তিনি বাংলা সাহিত্য জগতে একটি স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করেছেন।
নাসরীন জাহানের গল্পের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যেমন গভীর জীবনবোধ। তার গল্পগুলোতে জীবনের গভীরতা, মনোবিকলন, দৈন্য ও দারিদ্র্যের চিত্র পাওয়া যায়। তার লেখায় নারীদের জীবনের সংগ্রাম, স্বপ্নভঙ্গ এবং মানসিক অস্থিরতা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি গল্পে রূপক ও প্রতীকী ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে গভীর অর্থ প্রকাশ করেছেন।
বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনে নতুনত্ব এনেছেন। তার কিছু গল্পে বাস্তবতার পাশাপাশি জাদুবাস্তবতার উপাদানও বিদ্যমান।
নাসরীন জাহান এর উপন্যাস ও গল্প সুধী সাহিত্য মহলে সমাদৃত হয়েছে। তারপরও সার্বিক পর্যবেক্ষণের দায় থেকে বলতে হয়, একজন লেখকের মানসগঠন ও সৌন্দর্য চেতনার দ্যোতনা সামগ্রিক লেখায় পরিস্ফুটিত। মহৎ ও চিরায়ত সাহিত্যে সুকৃতি ও সৌন্দর্যের জয়গান আমরা দেখতে পাই। নাসরীনের গল্পের দূর্ঘটনাগুলো নারীপুরুষ নির্বিশেষে নিশ্চয়ই সাধারণ ঘটনা নয, দৃষ্টান্তও নয়। তাই সমাজবিশ্লেষণ অসুন্দরকে চিহ্নিতকরণ দিয়ে শুরু হতে পারে ; তবে সুন্দর সমাপ্তির দিকে দৃষ্টি থাকা ভালো।
নাসরীন জাহানের গল্পে অগ্রজ লেখকদের প্রভাব অনস্বীকার্য, তবে তিনি নিজস্ব স্বকীয়তা ও শৈলী বজায় রেখেছেন। তার গল্পে জীবনবোধ, মনস্তত্ত্ব এবং সমাজবাস্তবতার গভীর চিত্রায়ণ দেখা যায়, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
তাঁর গল্পে প্রভাব বিস্তারকারী অগ্রজ লেখকদের মধ্যে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। বলা হয়, জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো নাসরীন জাহানের গল্পেও প্রকৃতির বিশদ বর্ণনা এবং বিষণ্ণতা ও একাকীত্বের সুর লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাজ-বাস্তবতা এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের প্রভাব নাসরীন জাহানের গল্পেও দেখা যায়, যেখানে তিনি মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং সমাজের জটিল দিকগুলো তুলে ধরেন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মতো, নাসরীন জাহানও তার গল্পে ভাষার কারুকাজ এবং গভীর জীবনবোধের পরিচয় দিয়েছেন। যদিও তিনি অগ্রজ লেখকদের দ্বারা প্রভাবিত, নাসরীন জাহান নিজস্ব গল্প বলার ভঙ্গি এবং ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে আলাদা করেছেন। তার গল্পে নারী-পুরুষের সম্পর্ক, সামাজিক সংকট, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির সূক্ষ্ম চিত্রায়ন দেখা যায়।
উপসংহারে বলতেই হয়, নাসরীন জাহানের গল্পে অগ্রজ লেখকদের প্রভাব থাকলেও, তিনি নিজস্বতা ও স্বতন্ত্র শৈলী বজায় রেখেছেন। তার গল্পে জীবন, মনস্তত্ত্ব এবং সমাজের গভীর চিত্রায়ণ দেখা যায়, যা তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অলংকরণঃ তাইফ আদনান
