ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ট্রুম্যান কাপোটের বইটি দেখেছিলাম। “আদার ভয়েসেস, আদার রুমস”। উপন্যাসটি পড়া হয়নি। যখন নিউ মার্কেটের বইয়ের দোকানে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বইটি দেখি, নামটি আমার খুব ভাল লেগেছিল। অন্য ঘরে অন্য স্বর। আমার খুব ইচ্ছা ছিল লেখকের সাথে দেখা হলে প্রশ্নটা করব, তিনি কেন ২৮ বছর আগে প্রকাশিত আমেরিকান লেখকের এমন একটি উপন্যাসের নাম ব্যবহার করলেন তার প্রথম বইতে। সে সুযোগ হয়নি। ততদিনে তিনি পলোকগত হয়েছেন।
তবে এমন নয় যে ওনার সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচীর পাঠচক্র শেষে আমরা যারা পুরস্কৃত হয়েছিলাম, সেই অনাড়ম্বর আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। তিন গোয়েন্দা বইয়ের পাঠক থেকে বিশ্ব সাহিত্যের পাঠক হিসেবে আমার উত্তরণ হয়েছিল কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচীতে যোগ দেবার পরে। ক্লাসের শেষে আমাদের নিজেদের মধ্যে যে গল্প হতো তখন সবাই বলতো আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের নাম। যখন জানতে পারলাম এই বইয়ের কয়েকটি গল্পের বিষয় আমি যে পুরনো ঢাকায় বাস করি সেখানকার মানুষদের জীবন নিয়ে, স্বাভাবিকভাবেই বইটি পড়ার আগ্রহ বেড়ে যায়। তখন পর্যন্ত অবশ্য পুরান ঢাকার মানুষদের জীবন নিয়ে খুব বেশি লেখা পড়িনি।
১৯৭৬ সালে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম ছোটগল্প সংকলন অন্য ঘরে অন্য স্বর প্রকাশিত হয়। এই বইটি নিয়ে হাসান আজিজুল হক বলেছিলেন, ‘এটি তীরের মতো ঋজু, ধানি লঙ্কার মতো বদমেজাজি, পরনারীর মতো আকর্ষণীয়।’ এছাড়াও মাহবুবুল আলম, মুনতাসির মামুন, আবুল হাসনাত ও মাজহারুল ইসলাম বইটির সমালোচনা লিখেছেন। তাদেরই ধারাবাহিকতায় আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’ বইতে ৬টি গল্প আছে। ধারাক্রম অনুসারে নিরুদ্দেশ যাত্রা, উৎসব, প্রতিশোধ, যোগাযোগ, ফেরারী এবং নাম গল্প। প্রথম বইতেই তিনি খুব স্পষ্টভাবে গল্পকার হিসাবে নিজের চারিত্র নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সমাজের তিন শ্রেণির মানুষের জীবনের যে অন্ধকার দিক, কুৎসিত গোপন খোলসের আড়ালের চেহারা তাকে উন্মোচন করতে তিনি দ্বিধা করেন নি। এর পাশাপাশি জীবনের যে আলোকিত পর্ব অর্থাৎ মানবিক দিক, তাও উঠে এসেছে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের অকপট স্বীকারোক্তি পাঠককে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে তিনি সমাজের, রাষ্ট্রের এবং জীবনের যে অসুখ শনাক্ত করছেন তা সত্য। এই বাস্তব এতটাই সত্য যে এমনভাবে আগে কেউ বলেছেন কিনা সন্দেহ হয়। মানুষের বাইরের পলেস্তরা দেখে কিছুতেই তার ভাবনা এতটা কদর্য হতে পারে, মানুষ যে এমন প্রতিশোধ পরায়ণ হতে পারে কিংবা দুর্বলের প্রতি নির্মম হতে পারে তা বোঝা খুব সহজ নয়। তিনি তার গল্পগুলোতে ভেতরের ঘা দেখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আশ্চর্য হতে হয়, তিনি যে ভঙ্গিতে গল্প বলেছেন, তাতে মোটেও সন্দেহ জাগে না এর সত্য-মিথ্যা নিয়ে। বরং বিস্ময় জাগে।
পঞ্চাশের মধ্য পর্ব থেকে ষাটের দশক পেরিয়ে সত্তরের প্রথম পর্বের অর্থাৎ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের মানুষের নব্য-ধনী ও নব্য-মধ্যবিত্ত হয়ে ওঠার পর্যায়ে তিনিও পড়েন। তাই সেই শ্রেণি-পরিচয় রূপান্তরের যে টানাপোড়ন, নিজের শ্রেণিকে বিরূপ দৃষ্টিতে দেখার যে মানসিকতা, সেটা তিনি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে শ্রেণি চরিত্রের লক্ষণসমূহ এসেছে। আর্থিক দৈন্য কীভাবে জীবনকে নেতিবাচক পথে ধাবিত করে এবং গোপন লালসা নিজের শ্রেণি ছাড়িয়ে আপাত ওপরের স্তরে টেনে নিয়ে যায় সে চিত্র যেমন তিনি এঁকেছেন, তেমনই মানুষের ভেতরে যে পশু প্রবৃত্তি সুপ্ত থাকে সে কথাও উহ্য রাখেন নি।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সদ্য স্বাধীন দেশেও সংখ্যালঘুদের প্রতি সংখ্যাগুরুদের মনোভাব পরিবর্তন না হওয়া, নব্য মাস্তানদের দৌরাত্ম, ভঙ্গুর রাষ্ট্র ব্যবস্থার রোগ-বালাই তুলে ধরেছেন অত্যন্ত ধারাল ভাষায়। তার গল্পে ইউরোপীয় অস্তিত্ববাদের লক্ষণ ধরা পড়লেও ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন মার্কসবাদী। কিন্তু মার্কসবাদী শ্রেণি সংগ্রাম তিনি সরাসরি সংযুক্ত করেন নি, অন্তত এই বইয়ের গল্পগুলিতে। বরং এর উল্টো ফ্রয়েডীয় মনোস্তত্ব উঠে এসেছে।
প্রথম গল্পের নাম ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ হলেও পাঠক সহজে বুঝতে পারে এই যাত্রার নির্দিষ্ট গন্তব্য আছে। রনঞ্জু নামের আস্বাভাবিক ছেলেটি বৃষ্টির মধ্যে মা-বাবার বারণ সত্বেও অবচেতন স্বপ্ন-অস্বপ্নের দোলাচলে বাইরে বেরিয়ে আসে মধ্যরাতে। সে কিছু একটা খুঁজছে। মা-বাবার ঘরে গিয়ে ভুলে যায় কী খুঁজছে, রাস্তায় গিয়েও ভুলে যায়। তারপরও খুঁজতে থাকে। স্বগোতক্তি করে ‘ আমি কোথায় কী যেন হারিয়ে ফেলেছি’। রঞ্জু নদীর ধারে শিমূল গাছের নিচে দাঁড়ায়। প্রবল ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে ওর ওপর। রঞ্জু শিমূল ফুলের সুবাস নেয়ার জন্য জোরে নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে বুঝতে পারল তার সব নিঃশ্বাস শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ সে নিরুদ্দেশ যাত্রা করেছে।
গল্পটি কবিতার মত, নিরেট। মানব মনের যে জটিলতা, স্বপ্ন, পরাবাস্তবতা, এই গল্পটি পাঠকের হৃদয় কষ্ট ও অকষ্টে তছনছ করে দেয়, ভালোবাসা এবং সহানুভূতি তৈরি করে মা-বাবার জন্য, রঞ্জুর জন্য, এমন কি পুলিসের জন্যও। সেখানে প্রকৃতি মানব চরিত্রের একাংশ হয়ে যায়। লেখক বলছেন, ‘বৃষ্টি একজন অচিন দীর্ঘশ্বাস’। রুদ্ধশ্বাসে পড়ে ফেলার মত প্রথম গল্পটির প্রথম বাক্যটি অত্যন্ত কাব্যিক- ‘এই মনোরম মনোটোনাস শহরে অনেকদিন পর আজ সুন্দর বৃষ্টি হল।‘ আবার বলছেন, ‘বকুল পাতার নিঃশ্বাস বড় শূন্য মনে হয়।‘ আর বই সম্পর্কে বলছেন, ‘শেলফে আলমারিতে বইগুলো সারি সারি কফিনের মত শুয়ে আছে’।
এই বইয়ের দ্বিতীয় গল্প ‘উৎসব’। পুরান ঢাকার একটি ব্যস্ত গলির ধারের বাড়িতে আনোয়ার আলির সংসার। বড়লোক বন্ধুর বৌভাতের দাওয়াত খেয়ে প্রায় মধ্যরাতে ঘরে ফিরে তার মন ফুরফুরে। বিয়ে বাড়িতে সুসজ্জিত, সুবেশি, পারফ্যুম মাখা নারীদের দেখে সে তার আকর্ষণহীন স্ত্রীর সাথে তুলনা করে মনে মনে। শেষ পর্যন্ত একটি অতি কুৎসিত, জঘন্য দৃশ্য তার প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে। এই গল্পে তিনি মানুষ আর পশুকে প্রায় এক কাতারে দাঁড় করিয়েছেন।
এই গল্পে পুরুষের নিষিদ্ধ চিন্তাগুলোর কদর্য চেহারা এমনভাবে, এমন ভাষায় তুলে ধরেছেন লেখক যে নারীদের জন্য তা চক্ষু উন্মীলক হতে পারে। বিশেষ করে বাইরের প্রলেপ লেপা চেহারার পুরুষরা নারীদের কোন দৃষ্টিতে দেখে, এবং তাদের কামনার পটভুমি কতটা নিম্ন স্তরের হতে পারে তা বর্ণনা করতে গেলে হয়ত সহজেই ‘পারভারটেড’ বলে আখ্যায়িত করা হবে। কিন্তু আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এই বিষয়টিকে স্বাভাবিক পুরুষ চরিত্র হিসাবেই তুলে ধরেছেন। এই বাস্তবতা যে নির্দয় তা বোঝানোর জন্য প্রয়োজনীয় খেস্তি-খেঁউড় করতেও তিনি দ্বিধা করেন নি। অন্য ঘরে অন্য স্বর বইয়ের, এমন কি বাংলা সাহিত্যেরও একটি অত্যন্ত সাহসী গল্প বলা যেতে পারে ‘উৎসব’কে। সাধারণত এমন নিষ্ঠুর কিন্তু ‘ইরোটিক’ সত্য এমন ভাষায় লিখলে তাকে আনায়াসে পর্ণ সাহিত্য বলা হয়। কিন্তু আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের নির্মম বর্ণনায় তা মানব জীবনের (পুরুষ) একটি অপ্রকাশ্য সত্যের প্রামাণিকতা হয়ে উঠেছে।
বইয়ের তৃতীয় গল্প ‘প্রতিশোধ’। এটি একটি সাইকোলজিক্যাল গল্প। মধ্যবিত্ত সংসারের যেন নৈমিত্তিক ঘটনা। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়াসহ সিমেন্ট না পাওয়ায় অনেক অসমাপ্ত বাড়ি সম্পূর্ণ করতে না পারা নিয়ে ক্ষোভ সে সময়ের সমাজ বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসে ছেলে ওসমান। তার এক ভাই মুক্তিযোদ্ধা। গাড়ি দুর্ঘটনায় একমাত্র বোন রোকেয়া মারা গেলে, ভাইদের সন্দেহ হয় ওর স্বামী হাশেম ইচ্ছা করে রোকেয়াকে মেরে ফেলেছে। এর পেছনে দুটি কারণ তুলে ধরেঃ ওই গাড়ি দুর্ঘটনায় স্বামী গাড়ি চালালেও সে সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। আর ওরা জানত হাশেমের আগের প্রেমিকা ছিল। হয়ত তাকে বিয়ে করার জন্য রোকেয়াকে হত্যা করেছে। অবশ্য এটা কেবলই সন্দেহ বা কন্সপিরেসি থিয়োরি, এর কোনো প্রমাণ ওসমানের কাছে ছিলনা। ওসমান তার বোনের হত্যার (!) প্রতিশোধ নেয়ার জন্য হাশেমকে মারতে চায়। কীভাবে মারবে তা নিয়ে নানা ধরনের পরিকল্পনা করতে থাকে। কখনো কন্সট্রাকশনের জন্য রাখা রড দিয়ে, কখনো অসমাপ্ত বিল্ডিঙের ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে অথবা কখনো ট্রাকে চাপা দিয়ে মারার কথা ভাবে – এইসব চিন্তা তার মাথায় নানা নীলনকশা তৈরি করতে থাকে। তীব্র ও তীক্ষ্ণ ভাষায় দেয়া বর্ণনায় ওসমানের সেই সাথে পাঠকের মনে হয় এই বুঝি হাশেমকে হত্যা করে ফেলল। এখানে লেখক চমতকারভাবে সাসপেন্স ধরে রেখে টান টান উত্তেজনার পরিবেশে পাঠকদের জড়িয়ে ফেলেছেন। লেখক বলছেন,’ ওপরে ছাদ নেই, কোনো ছাদ নেই, কেবলই আকাশ। নীল ও নির্লিপ্ত আকাশ। অনেক দূরে দূরে চড়ে বেড়ায় সাদা মেঘের পাল। সমস্ত আকাশে কোথাও একবিন্দু রক্তচিহ্ন নেই। শরৎকালের নীলচে সাদা রোদে আকাশের নিচেকার নিরাবরণ শূন্যতার একেবারে ভিতটাও দ্যাখা যায়। কোথাও রক্ত নেই।‘
শেষ পর্যন্ত ওসমানের বোধোদয় হয়। সে প্রতিশোধ নেয়া থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করে। এই গল্পের ভাষা কাব্যিক এবং রূঢ়, খনখনে নিরেট। প্রতিশোধ গল্পে অন্য ভাই আনিসের ছাত্র রাজনীতি, যুদ্ধের সময় ভারতে গেলেও যুদ্ধ না করে আরামে-আয়েশে দিন কাটানোর কথা এভাবে তুলে ধরেছেন,’কিন্তু আবুল হাশেমের কল্যাণে আনিস ক’টা মাস প্রতিবাদ সভা ও শোকসভায় যোগদান করে, এখানে ক’টা মাস লাঞ্চ ডিনার মেরে ও লাঞ্ছিতা মাতৃভূমির জন্য নিবেদিত অশ্রুর সঙ্গে পাঞ্চ করা হুইস্কি জিনের স্বাদে আপ্লুত হয়ে দেশে ফিরল বিজয়ীর বেশে।‘সত্যকে তিনি এমন নির্মমভাবে তুলে ধরেছেন। নির্মমতার পাশাপাশি মানবিক বিষয়গুলো তার হাতে মেঘের মত জলীয় ও সৌন্দর্যময় হয়ে উঠেছে।
‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’ গল্প তিনি শুরু করেছেন পরিবর্তনের কথা বলে। তিনি বলছেন, ‘শহর সে রকমই আছে। রাস্তা বলতে গেলে একটাই, ১২/১৩ বছর আগে ১৬/১৭ বছর বয়সে যেমন দেখেছিল, ঠিক তেমনি রাস্তা। রাস্তার দুইদিকে কোনো কোনো মাঠে কি অফিসের সামনে খালি জায়গায় এখন নোংরা বস্তি, বস্তিগুলো আগে ছিলনা।‘ প্রদীপ ঢাকা থেকে নারায়নগঞ্জ গেছে। আড়তের মালিক ননীদা। সেখানে ননীদার জন্য অপেক্ষা করতে করতে বড় বড় চুলওয়ালা, বেলবটম প্যান্ট পরা চাঁদাবাজ মাস্তানদের দৌরাত্ম, হিন্দুদের অনিশ্চয়তা একবিন্দু পরিবর্তন না হওয়া, ব্যবসা করতে গিয়ে মাস্তানদের খুশি রাখার চেষ্টা, জোর করে ভাল থাকার ভান করে বেঁচে থাকার যে বেদনা, তা দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে হচ্ছে হিন্দুদের। জন্মভূমি বাংলাদেশে এইভাবে নিষ্পিষ্ট হয়ে থাকবে নাকি ভারতে চলে যাবে, এই দোলাচল বেশির ভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের। তাদের ভেতরের হতাশা কীভাবে পীড়ন করছে তা শেষের এই কয়েকটি বাক্যে স্পষ্ট হয়ঃ ‘মধ্যরাত্রির এইসব ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে প্রদীপ বিছানার ওপর একেবারে টান টান শুয়ে পড়ল। জানালা বন্ধ করে দেওয়ায় ঘরে এখন নিভৃত বর্গক্ষেত্র। ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে মশারি। মশারির ভেতর চতুষ্কোণ অন্ধকার। তার ৫’৪” শরীরের ভেতর থেকে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিচিত ধ্বনি এসে অন্ধকারে দানা বাঁধতে শুরু করলে প্রদীপ আস্তে আস্তে থিতিয়ে পড়ে।‘
প্রতিটি বাক্যে প্রতীক বাঙময় হয়ে উঠেছে।
শুধু ধর্মের কারণে নয়, মানুষ থেকে মানুষের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হওয়ার আলামতগুলো আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হৃদয় তোলপাড় করা সৌকর্যে তুলে ধরেছেন। পাঠকরা দেখতে পান ষাটের দশক থেকে সত্তরের দশকে কীভাবে ঢাকার সমাজ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, কীভাবে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে মানুষ, মানুষের মন, কীভাবে একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠছে তার সব অর্থাৎ ইতিবাচক ও নেতিবাচক লক্ষণসমূহ নিয়ে। তিনি যেন তৃতীয় নয়ন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে স্বীকার করতে হবে নাগরিক জীবনের ক্লেদ, নির্মমতা, গোপন চিন্তা রিপুর নখ-দাঁত নিয়ে নগ্নভাবে হাজির হওয়ার প্রবণতা গুলো তাঁর গল্পের অন্য এক অবয়ব ও মাত্রা তুলে ধরেছে। এই গল্প বলার স্বর অন্য স্বর বললেও এই স্বর তাঁর একান্ত নিজেরই।
অলংকরণঃ তাইফ আদনান
