অপেক্ষা
নদীরা বললো তুমি বসে ছিলে কারো অপেক্ষায়,
যেখানে পা ভিজিয়ে নুইয়ে পড়েছে জামরুলের ছায়া
মাঠের আইল, কাশবন, পার্কের বেঞ্চ, ঝরে যাওয়ায় শুকনো পাতা,
সবাই দেখেছে তোমায়-
তুমি ফিরে গেছো বার বার কারো খোঁজে।
রেল-বস্তির ‘নসিমন’ কসম খেয়ে বললো
তোমায় দেখেছে সে, ফুলতলা স্টেশনের দিকে যেতে-
রেল লাইন ধরে হেঁটে হেঁটে।
কেউ বলতে শুনেছে চায়ের দোকানি চা এগিয়ে দিতে তুমি অস্ফুট স্বরে বলেছিলে-
‘ও আসুক তারপর এক সাথে খাবো।’
অথচ অপেক্ষারা কোনো উপঢৌকন নিয়ে আসেনি সেদিন
অথবা কোনোদিন।
তারপর কোনো একদিন, মেঘেরা বললো তোমায় উড়ে যেতে দেখেছে
চাঁদ অথবা নক্ষত্রের দিকে।
কী একটা সময়
কী একটা সময় আজ
বিশ্বাস হারিয়ে যায়
হাঁটে কারো হাত ধরে—
গলাগলি করে গায় গান
ভাঙা সুরে।
কী একটা চায়ের কাপ
ছলকে পড়ে দু’ফোঁটা, জামায়-
আদরে নয়, পুড়িয়ে জানিয়ে দেয় ওর তাপ।
কী একটা তুমি
পোড়া ঠোঁটে বলে দাও-
কতটা অ-ভালোবাসো আমায়!
কি একটা মানবতা
সমাজ,সংসার ভেসে যায় বিবেক, মানবতা -
বার বার খুন হয় স্বাধীনতা !
ঝরাপাতা
এবারও কি ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাবে?
ট্রেনে চড়ে নাকি বাসে?
গেলবার গাড়ির জানালার কাঁচে
লটকে ছিলো একটি শুকনো পাতা -
মনে পড়ে?
ওর বুকে ছিলো আঁকিবুকি কারো মুখ,
চটুল মিষ্টি অনুভূতির কিছু হিসেব নিকেশ,
ছিলো পুকুর ঘাটে পিছলে পড়া চাঁদের আলোর কিছু ছবি-
তুমি কি জানতে ওটা ছিলো আমার সমাধি থেকে উড়ে যাওয়া
একটি ঝরাপাতা?
সেদিন তুমি খুব কেঁদেছিল!
অলংকরণঃ তাইফ আদনান
