জলধি / কবিতা / যযাতি দেবলের পাঁচটি কবিতা
Share:
যযাতি দেবলের পাঁচটি কবিতা

তাত  

তাত বাড়ছে; ইচ্ছে নেই আকাশ দেখার
পাখিরা নেমে এসেছে মাটিতে, পাতার ছায়ায়
ধুতরোর গন্ধে আর কুঁচ ফলের ঝোপে আলো
এখানে সবাই চেনে অনাত্মীয় কেউ নয়
চিনি না কাউকে —শুধু চেনা মনে হয়।

তাত বাড়লেও পথ ছুটছে; পেটের মাড়িতে টান
তেতে পুড়ে এলে —ছায়ায় জিরোও
জল নাও। পাটালি আছে:নাও!
বড় তাত হে! এ মাধব মাসে

একফালি মেঘ পেলে ছায়া হতো খরার আকাশে।


ছকবাজি

ছিল কি প্রণয়, সে সময়?
–ভেবেছ জিতে গেছ আসলে তা তো নয়!

না ছিল ভালবাসা কেবল লেনদেন।
কেবলই ঘোরলাগা কেবলই চাওয়া পাওয়া!

কে তখন কাঙ্ক্ষিত,কেইবা বাঞ্ছিত;
–কে মেরেছে গণ্ডার, লুটেছে কে ভাণ্ডার?

ভেবেছ জয়ী তুমি, যা হল ছকবাজি ;
–সে জয় জয় নয়, জেনো তা পরাজয়!


আরেক নক্ষত্রের দিকে

নক্ষত্র প্রদেশে তুমি ছিলে সংগোপনে

তোমাকে এনেছি ভেলভেট কৌটায় সাবধানে অনিবার্য সতর্কতায়
অগ্নি সম্ভবা তুমি কৃষাণীর বেশে আলের উপরে এসে দাঁড়াও
পাকুড়তলার মাঠ জিভ পিছলে যাওয়া আয়না হয়ে থই থই
গুছি হাত করে-পিছিয়ে পিছিয়ে
হিলহিল করবে ক'দিনেই পূব থেকে পশ্চিমে

সন্ত্রস্থ শামুক গুগলি জানে ফনফনিয়ে বাড়-বৃদ্ধি
ঋতুমতী ধানের থোড় ফাটবে 'ধানফুল আয়' বলে ডাক দেবে পুরুষ
তুমি কাস্তেতে পোঁড় কাটো,তেল দাও গাড়ির লিগে

তোমাকে নিয়ে যাবো নক্ষত্রের দেশ থেকে আরেক নক্ষত্রের দিকে…


তখন দুপুর 

গাভীন মেঘের ভিতর থেকে আবছা আলোছায়া
ভেসে যায়…আচমনে ভাসে গাছপালা
থেকে থেকে শুদ্ধ হয় চরাচর

মধ্য শাওন জুড়ে

বৃষ্টি ভাসছে বৃষ্টিতে থই থই চান

ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি
দু'জনে দু'জনায়

চিলেকোঠা হাসে স্মৃতির দরজায়


ছিল সে একদিন 

সারা জীবনের চেষ্টা শুধু কয়েকটি কবিতা আঁকার
সবকটা কবিতায় মাঠ, থই থই পদ্মপুকুর বাঁধাঘাট
পূর্ব পুরুষের কথামালা গল্পকথা

অক্ষরগুলি ছুটেছে পালদেবেড়ায়
ভালকোর পাড় জঙ্গলে মোল কুড়ানো

মুচকুন্দ ছায়ায় ইসকুলে
ঠাকরুন তলায় দাওন আনা
হাতছানি দিয়ে ডাক দিচ্ছে আয়

ছিল সে একদিন
গ্ৰাম ছাড়িয়ে মাঠ পেরিয়ে বনস্থল
বিশ্বাসে ভর করে পৌঁছে দিয়েছি গোপনতা

শুধু কেউ কেউ দূরে সরে,কেউ কেউ নেই হয়ে গেছে…



অলংকরণঃ তাইফ আদনান