জলধি / কবিতা / প্রাণজি বসাকের পাঁচটি কবিতা
Share:
প্রাণজি বসাকের পাঁচটি কবিতা

সীমানা কতদূর

 

মাপতে মাপতে সীমানায় ফিরি

স্মরণ করি  যা কিছু মনে পড়ে 

সীমানার গন্ডিকে বিস্তৃত করি

ঠিক যতটুকু সম্ভব সইতে পারি 

 

মেসেজগুলো পড়ে খোঁজা অর্থ

কীভাবে কোনদিকে দ্যুতি ছড়ায়

অসীম দূরত্বে দ্রুত বেগে ধাবিত 

উত্তর আসেনি… আসবেও না 

 

আমৃত্যু সরব থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা

ভালো নেই বলে মনটা সরালে যে

সামর্থ্য অর্জন করে এইতো আসা

কতদূরে সীমা কতবার স্মরণ করি


 

সেও জানে

 

আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেসব প্রশ্ন মুখ তোলে

তার উত্তরগুলো সেও জানে তবুও মুখোমুখি হয়

প্রতিবিম্বে এযাবৎ যাপিত বাস্তবতা আর চতুরতা

নিজেকে আড়াল করা যায় না সময় ও আয়নায় 

 

দূরদেশ থেকে এসে গ্রাম্য পথে ভ্রমণ প্রিয় দূরত্বে

বাঁশতলা পথে অচেনা বাতাসটা মাতে হুজ্জতে

অপটু বাক্য দোল খায় ধান ক্ষেতে সরু আলপথে

মাথার উপর আকাশটা বিশাল দৈত্যকার আয়না

 

নিজেকে আড়াল করা যায় না প্রকৃতির খেলায়

মাথার উপর আকাশ গ্রন্থনা করে প্রশ্ন শেষকালে


 

এপিসোড

 

যতবারই গেছি কাছে আনত ছায়া ঘুরঘুর করে 

কখনও মিশে যায় মিশকালো আঁধারে সুযোগে 

নিশ্চুপ দুপুরে পরিপাটি পরিবেশে এক মহাযজ্ঞে

পাকেচক্রে খুলে দিলে উপন্যাস যুগল পাঠক্রমে 

 

বানভাসি জল উঠোনে দুয়ারে ঘরে বাইরে রান্নাঘরে 

সাঁতরে বেড়ায় শিং মাগুর ট্যাংরা পুঁটি যত ছোটমাছ 

খপ করে ধরে ফেললে একটা শাটিমাছ মেঝেয় জলে

খলবল খলবল ঘোলা জলে একাকার সুখের অসুখে

 

কতদূর থেকে আসি তাই খোলা থাকে এক কোণে ঘর

কখনো ঘুম আসে   কখনও মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যায় 

শিশির পড়ে টিনের চালে  ভোরের তালে নজর কেড়ে 

বাসি ঘরে দেরি করে রোদ আসে জড়িয়ে ওঠে ভুগোল


 

দুঃখ ও বানান 

 

দুঃখ ও তার বানান নিয়ে কাটে সারারাত

বাতি নিভে গেলে দুঃখরা আরও কাছে আসে

নবীনতম দুঃখ ঢুকে পড়ে গভীরতম দুঃখ প্রবাহে

ফিলটার করা দুঃখরা ছাঁকনিকে দোষ দেয় 

অযথা দীর্ঘ হয় রাতের অভিলাষ 

 

সেও আঙুল ছুঁয়ে পণ করে   তবুও ঘুম আসে না

বানান নিয়ে কাটে সারারাত   একে অপরের দুঃখ ও বানানে


 

রাত

 

জাবরকাটা রাত   এগোয় না

গোয়ালে অন্ধকার পেঁচিয়ে ওঠে কাল

 

কতদূরে তোমার ঘর   জানি না

তোমার দিকে চেয়ে দেখি   সূর্য 

 

জীবন   মাপতে মাপতে এবেলা

ক্ষান্ত হই     অবশ পড়ে থাকি 

 

হারান পাগলা উঠোন মাড়ায়

রেখে যায় পায়ের ছাপ

 

ফের আসে জাবরকাটা রাত

অন্ধকার জাপটে ধরে   জীবন কাল



অলংকরণঃ তাইফ আদনান