তোমাকে ছাড়া
তোমাকে ছাড়া কী চলবে না আমার?
চলবে
বুকের ভেতর বিছিয়ে রেখেছি শারদীয় সুঘ্রাণ,
দুধশাদা পালকের জড়াজড়ি,
মুঠো ঘুম, আর
একটু দূর থেকে হেঁটে আসা সকাল।
মৌনতার ভয়ে যখনই তালুবন্দি নক্ষত্ররা গেছে সরে
পাথরে রেখেছি চুম্বন
দিঘল সমুদ্র স্নান শেষে যদি না-ও ফিরে আসো
হাতের বাজুতেই খুঁজে নেব তোমার নীল ময়ূরী।
জোছনার রেণু মেখে, নিরন্তর হাঁটুজল ভেঙে
সুদূরতম’র কবজ পরে যদি চলে যাও অচেনা গান্ধারে
কোলাহলের মৃত্যু হলে অশ্বখুরে ধ্বনিত কুচকাওয়াজ ছেড়ে
ছাইরঙা সারসদের উড়ন্ত প্রণয়ের এই বেলাভূমি ছেড়ে--
মনে রেখো
পথেরও পথ আছে, আছে আকাশেরও আকাশ;
...তোমার ফেলে যাওয়া ভারাক্রান্ত রাতে
সম্মোহনের ফুল হয়ে ফুটব।
দরজা
তোমাকে নদী কিংবা পর্বত হতে বলিনি আমি, একটু থিরথিরে ঢেউ কিংবা পোড়ামাটি হও; তাতেই খুঁজে নেব তার মুখ। যে সুপ্রাচীন সাম্রাজ্যের উন্মাদ দেবতারা মমির গুহা থেকে দেখে প্রত্যাবর্তনের আয়না, এবং ভোরের জাফরানি সূর্য প্যাপিরাস ও খুনি গোলাপের দ্বৈরথ; সেই সাম্রাজ্যের কোনও এক সুলোচনা গোপন দরজা খুলে রেখেছিল আমার জন্য। হেরোডোটাসের একপ্রস্থ পোশাক পরে আমি সেই দরজা খুঁজি আজও। কখনও ঘুমের পারদ পুড়িয়ে পান্থশালায় বসি, অন্ধকারের আয়োজন শেষে বেরিয়ে পড়ি সংশপ্তকের সওয়ার হয়ে। ভয়ের বজ্রশাসন, কোতোয়ালের আড়চোখের আগুন, বর্ণনাকুশল মিথ্যের ফানুস গেঁথে দিই শঙ্খচিলের পালকে।
আকাশপ্রান্তের সমান্তরাল প্রচ্ছদ ঘেঁটে, এবং সময় মূর্ছা গেলে ভাতপ্রবণ সন্ধ্যার টানে ফিরে আসি তোমার অবিনাশী মায়ার পাশে; যেখানে মোমের সন্ন্যাস তপস্যা করে ঘাতকের বেশে--যদিও অবশ্যম্ভাবী খুনের প্লট নেই তার। অন্বেষণের রক্তকণা ভিড় করে জমে করোটির জলসত্রে, প্রশ্নচিহৃ বিমর্ষ মাথা ঠোকে জলঙ্গা নীল দেয়ালে, ’তোমাকে পাই, তাকে পাই না কেন? কোথা সেই দরজা?’
চলছে শুলুক-সন্ধানের আত্মমগ্ন মৈথুন, বরফকাল অথবা দাহকাল চলবে আরও; হয়তো অনাদিকাল...
স্মৃতির ভেতর
যে ঢেউ ঘুমায় না সমুদ্রের মন্থর বুকে, পাশ ফিরে খোঁজে সমসূত্র-ছেঁড়া ফেরারি ঢেউ;
তার মতো একাকী রাত জেগে আছি। বুকের উঠোনে সুতীব্র বেদনার মাশরুম ছিঁড়ে ছিঁড়ে
পড়ে, চিতার কালো জোছনা ঝরে পড়ে নখরে নখরে।
হরিণখোলা মুন্দেশ্বরীর জলে যে দেহাতি সন্ধ্যা বিসর্জন-বিসর্জন খেলে, তুমি তার মতো
আমাকে বিসর্জন দিয়ে গেছ এই স্যাঁতসেঁতে শহরে। কতকাল শাদা পালকের তারাদের
কোন্ডর পাখিদের মতো ডানা মেলে নামতে দেখিনি শালিকদের চরাচরে।
আহা, কী নিখুঁত পরিকল্পনা তোমার! তবুও আতপচালের গন্ধমাখা স্মৃতির ভেতর
সোনামুখি সুই দিয়ে সেলাই করে যাব ছেঁড়া ছেঁড়া মায়ার কাহন।
অলংকরণঃ তাইফ আদনান
