জলধি / কবিতা / এম এ ওয়াজেদের তিনটি কবিতা
Share:
এম এ ওয়াজেদের তিনটি কবিতা
এই মৃত্তিকার দূষিত শহরে 
 
এই মৃত্তিকার দূষিত শহরে
শকুনগুলো খুব বেশি ক্ষুধার্ত
ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নগ্ন উৎফুল্লতা
সাম্রাজ্যবাদী পোষ্টারে ছেয়ে গেছে
প্রতারিত পলেস্তারার অশ্রুসিক্ত যৌবন
হে আমাদের শুভবাদী অঙ্গীকার-
তোমার নীল শাড়ির আঁজলা ভরে গেছে
ফোঁটা ফোঁটা হালাল রক্তের মৃত্যু কফিনে
 
নিরস্ত্র শরীফ ওসমান হাদীর পোশাক
ঠিক যেনো সাগরিকার প্রচণ্ডতার ঘূর্ণিঝড়
দুঃশাসনের তুলতুলে পরগাছার শিকড়
ভেঙে ফেলতে চায় অবিনাশী প্রতিজ্ঞায়
তার বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয় আত্মগর্বী চেতনার
নিখাদ স্লোগানের রক্তস্ফুলিঙ্গ আত্মক্ষরণ
রাজনৈতিক সামন্তবাদের যে আজন্ম অন্ধকার
সে ভেঙে ফেলতে চায় অমিত তেজ হুংকারে
 
কর্পোরেট সিন্ডিকেট অথবা মিডিয়া ফ্যাসিবাদ
কেড়ে নিয়েছে জীবনরসের নন্দিত প্রোমোটার
ক্ষমতালোভের নির্লজ্জ বেদুইন তাঁবু
বন্দী করে প্রেমবাগানের সুরভিত পুষ্পরেণু
মূর্খতার ক্যাটালগে দিক পরিবর্তন করে
শুভ্রশ্বাস অথবা সম্ভাবনার বসন্ত বায়ু
ইন্সটলড প্রতারণার সারি সারি রক্তমুখ
তছনছ করে বিপ্লবের আত্মবেদী শুভ্রজামা
 
অনিশ্চিত জীবনের চয়নিকা প্রবল হয়
পেছনে পড়ে থাকে আতঙ্কিত মধুর ক্যান্টিন
পেইড ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়
বিপ্লবের বুনিয়াদি স্লোগান
আমাদের অস্থিমজ্জায় কোনো এক কালে
যে দানবতন্ত্র সুখবাদী সওয়ারি হয়েছিলো
তার পায়ের নিচে পিষ্ট হয়েছে
এই মৃত্তিকার দূষিত শহরের প্রতিটি ধূলিকণা

সিক্তাঞ্জলি
 
অবজ্ঞার রমণীয়া শরীরে পলকহীন চোখে-
তাকিয়ে থাকে বেদনার অঙ্কুরিত অভিমানী শিক্ষানবিশ
যে ফুলের তোড়া দিয়ে সহিংসতার শুভেচ্ছা বিনিময় হয়
অথবা গন্ধপ্রিয় মুখগুলো লজ্জাহীন সাজ পোশাকে
কাঁধে তুলে নিয়েছে শুভবাদী ভার্সিটির চেয়ার টেবিল
সর্বনাশের চিত্তশূন্য ডরমিটরিতে জমা রেখেছি সিক্তাঞ্জলি
 
আমাদের পাখিগুলোর বাসা ভেঙে ফেলেছে-
কর্তৃত্ববাদী নিউট্রন বোমার অর্বাচীন আদিম ক্ষুধার্ত শকুন
যে নেভারতিরী ভুলে গেছে মানবিকতার স্বর্ণাভ নেটিকেট উদ্ধত প্রেতলোকের অন্ধকার ছায়াছবির সংলাপ
অষ্টাদশী শুকতারা সেও জেনে ফেলে-
এই বিশ্বের মাইটোকন্ড্রিয়া খেয়ে ফেলেছে প্রুসিক অ্যাসিড
 
বিজ্ঞাপনের প্রতারিত ট্রিগার হাতে-
যে অভিনন্দিত প্যারাসাইটগুলো চিবিয়ে খেয়ে ফেলেছে
সভ্যতার অভিযোজিত নাকফুল ভালোবাসার রাজমুকুট
এই বিশ্বের যুদ্ধবাদী ট্রেনিং সেন্টারের উন্মাদ ডাইরেক্টর
নিঃশেষ করেছে আশাবাদী প্রজন্মের ফ্রুটফুল মিউটেশন
গ্ৰীষ্মমণ্ডলীয় দহনে পুড়ে গেছে মানবজাতির প্রোমোকোড

হে বিষণ্ণ বিষাদ 
 
মধুমিতা জানালার ধারে একাকী দাঁড়িয়ে আছে
তার কেশগুচ্ছে কতিপয় রজনীগন্ধা
ডান হাতে গোলাপ বাম হাতে হাসনা হেনা
 
বেদনার স্মৃতিচাদরে আত্মগোপন করেছে
মধুমিতার ফেলে আসা স্মৃতিভ্রষ্ট রাজহাঁস
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অপরিচিত মুখের পায়চারি
 
আতিকুলের যে হাতটি শহীদ হয়েছিলো
স্বৈরতন্ত্রের কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসনিক ট্রিগারে
মধুমিতা দেখেছে তার হাতটি রাস্তায় গড়াগড়ি খায়
 
হে বিষণ্ণ বিষাদ-
দুঃস্বপ্নের রাত শেষে মধুমিতা জেগে ওঠে
খুঁজতে থাকে রজনীগন্ধা গোলাপ আর হাসনা হেনা


অলংকরণঃ তাইফ আদনান