জলধি / কবিতা / আয়াজ আহমদ বাঙালির তিনটি ছড়া
Share:
আয়াজ আহমদ বাঙালির তিনটি ছড়া
ক্ষুধার কান্না
 
পুবাকাশে রবির উদয়
ঘরের উদয় দুখ,
ফাঁকা চুলো শূন্য হাঁড়ি 
অশ্রু ভেজা মুখ।
 
ধানের মাঠে কর্মক্ষেত্রে 
মজুর ময়না ভাই,
দিন গড়িয়ে সন্ধ্যাবেলা 
খাদ্য জোটে নাই।
 
শহরবাসী সুখেই আছে 
জারুল জবা নীপ,
অলি গলি জ্বলে আছে
নানান রকম দীপ।
 
টকটকে ফল মাংস ভুনা 
চকচকে ওই চাট,
হতভাগায় কে খাওয়াবে 
পেস্তা পনির নাট।
 
কোন জনারে বলি বলো
কেবা নেবে দায়?
ক্ষুধার মারে কাঁদে মানুষ 
নোনা পানি খায়!

নীলাকাশের টানে
 
শীতের আমেজ ধরাধরি 
ঘাম গরমে আড়ি,
শীত এসেছে গরম দিতে
কাঁথা কম্বল নাড়ি।
 
দিঘীর জলে লম্ফঝম্ফ 
লাফায় বানর গাছে,
ঘাসফড়িং ও প্রজাপতি 
খেলায় মেতে আছে।
 
খেলার মাঠে পড়ে ছায়া 
কাকে ডাকে কাকা,
খোকা গেছে বকুলতলে
ডাকলে বলে না না।
 
নদীর পারে পালের গরু 
সঙ্গে রাখাল হাঁটে,
নদীর জলে ব্যস্ত জেলে
পান সুপারি গাঁটে‌।
 
উড়ো উড়ো অন্তর পাখি
নীলাকাশের টানে,
ইচ্ছে করে করবো বসত
নীলাকাশের পানে।

সুখের খোঁজে
 
সঠিক রাস্তায় পূর্ণ আছে
শান্তি সুখের পানি,
এই পানিতে ভাগ্য নৌকা 
জলদি ছুটে জানি।
 
সঠিক পথে কামিয়াবী 
সুখ ফসলের কাস্তি,
ভ্রান্তি ভুলে চলা কঠিন 
শেষ নিকাশে শাস্তি।
 
উপরওয়ালা সবি দেখে
খাতায় ধরে রাখে,
যেমন কর্ম তেমন প্রাপ্য
কণাও যদি থাকে।
 
থাকতে সময় প্রভুর কথা
লাগান কর্মে রোজ,
তার করুণা ভালোবাসায়
পরম সুখের খোঁজ।


অলংকরণঃ তাইফ আদনান