জলধি
/ কবিতা
/ অর্পিতা ঘোষ পালিতের তিনটি কবিতা
অর্পিতা ঘোষ পালিতের তিনটি কবিতা
যৌথযাপন
সকালের রোদ গায়ে লাগতেই
ভিড় বাড়ে বাজারে
ক্রেতা আর বিক্রেতার দরাদরির
সহবস্থান জানিয়ে দ্যায়
যুদ্ধ চিরকাল চলতে পারে না।
ত্যাগের আসনে যে ছিল এতদিন
মুখোমুখি হলেই হাসি বিনিময়।
দুপুর হেঁটে সন্ধ্যার আঁধার ছুলেই
এলাকায় পড়ে থাকে ধোঁয়াশা
সারাদিনের প্রাপ্তিগুলোকে সঙ্গী করে
দোকানিদের ক্লান্ত পা বাড়ি চিনিয়ে দ্যায়
ফেলে রাখা আবর্জনার স্তূপের পাশে
ঘুমে মগ্ন কুকুরগুলো
অসীম শূন্যতাবোধে আক্রান্ত হয়ে
যে পাগলটা খোঁজে প্রাবল্য
তার মনের আনাচে কানাচের কামনাগুলো
চলে যায় ঢেকুর তুলে
নীরবতার শূন্যস্থান পূরণ করে
হাজার ওয়াটের আলো নিয়ে
নিঃসঙ্গ স্ট্রিট লাইট।
এমব্রয়ডারি
মাথার ওপরে সূর্য
উত্তরপাড়া থেকে দক্ষিণপাড়ার রাস্তাটা
ভেবেছিলাম হাত ধরাধরি করে হেঁটেই পৌঁছে যাব
কালো মেঘ জমে ইশান কোণে
বৈষম্য মাঝ বরাবর
আমার নিজস্ব উচ্চারণ ভেসে যায় হাওয়ায়
ভীষ্মের পণের কাছে জিততে পারিনি সেদিন।
পরিমিত সুখ কিংবা স্ববোধ কিছুই নেই
বিলীন হয়েছে জেগে দেখা স্বপ্নগুলো
সুতো ছাড়াই ফোর দিয়ে চলেছি এমব্রয়ডারিতে
যেতে ইচ্ছে করে
ছেলেবেলার গরিব রাতে
হ্যারিকেনের আলোয়
দুলে দুলে মুখস্থ করতাম ক্লাসের পড়া।
প্লাস্টিকের বালতি ব্যাগে
থরে থরে গোছানো থাকতো
বই, দিস্তা খাতা আর
এক-টাকার নিব পেন
যাতে ভরা থাকতো সুলেখা কালি।
বড়ো হবার গোলমালে দিনে
সবকিছু হারিয়ে গেল।
হেঁটে চলেছি ফিউচার টেন্সের দিকে
সাজানো-গোছানো অন্দরমহল
চোখ ধাঁধানো শপিংমল
একে-একে বদলে যায় সব-কিছু
সেটাই ভবিতব্য, কিছুতে যাবে না রোখা।
মাথায় মধ্যে ধিকিধিকি আজও বয়ে চলেছে
মফস্বলের জীবন
আঁকড়ে আছে টিমটিমে আলোয়
“আমার যেতে ইচ্ছে করে
নদীটির ওই পারে…”
অলংকরণঃ তাইফ আদনান
